![]()
তারেক রহমানের সফর নিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের বিজ্ঞপ্তি ও প্রত্যাহার: ধোঁয়াশায় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক
ভারতের [রাষ্ট্রপতি ভবন] বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী [তারেক রহমান]-এর আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানানোর মহড়ার কারণ দেখিয়ে শনিবারের ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান বাতিলের বিজ্ঞপ্তি দিয়েও এক ঘণ্টার মধ্যে তা প্রত্যাহার করেছে। এই ঘটনায় নয়াদিল্লিতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারতের [পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MEA)] মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন যে, সফর সম্পর্কে বর্তমানে তার কিছু বলার নেই। অন্যদিকে ঢাকাও সফরের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করেনি।
- 📄 বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার: রাষ্ট্রপতি ভবনের বিজ্ঞপ্তি মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যাহার।
- ⚖️ প্রত্যার্পণ ইস্যু: শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ নিয়ে দিল্লির আনুষ্ঠানিক উত্তরের অপেক্ষায় ঢাকা।
- 🤝 দ্বিপাক্ষিক সফর: তারেক রহমানের সফরের জন্য ‘অনুকূল পরিবেশ’ দাবি বাংলাদেশের।
- 🌍 ব্রিকস সম্মেলন: ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বাংলাদেশকে।
বিজ্ঞপ্তি ঘিরে বিভ্রান্তি ও ভারতের অবস্থান
শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে [রাষ্ট্রপতি ভবন] একটি প্রেস রিলিজে জানায়, “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানানোর পূর্ণাঙ্গ মহড়ার কারণে শনিবার (২২ আগস্ট, ২০২৬) ফোরকোর্টে চেঞ্জ অব গার্ড অনুষ্ঠানটি হবে না”। যেহেতু সাধারণত অনুষ্ঠানের একদিন আগে মহড়া হয়, তাই একে তারেক রহমানের সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবেই ধরা হচ্ছিল। কিন্তু এক ঘণ্টা পরই আরেকটি বিবৃতিতে আগের প্রেস রিলিজটি প্রত্যাহারের কথা জানানো হয়। এই বিভ্রান্তি সম্পর্কে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমার এখন কিছু বলার নেই। আপডেট পেলে জানাব”।
শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ ও ঢাকার শর্ত
[শেখ হাসিনা]-র ভারতে আশ্রয় নেওয়া এবং গত ৫ আগস্ট তার অডিও বার্তার কারণে ঢাকা ক্ষুব্ধ, যেখানে তিনি মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এএএম সালেহ সংবাদ সংস্থা [রয়টার্সকে] জানান, সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি; ঢাকা শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।
ঢাকা শর্ত দিয়েছে যে সফরের জন্য একটি “অনুকূল পরিবেশ” তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অধীনে শেখ হাসিনা এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর খুনিদের দ্রুত হস্তান্তর করার জন্য আমরা ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছি”।
বরফ গলার চেষ্টা ও ব্রিকস সম্মেলন
নয়াদিল্লি জানিয়েছে, প্রত্যর্পণের অনুরোধটি “পরীক্ষা করা হচ্ছে” এবং তারা পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। ভারত ২১ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সফরের প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে চূড়ান্ত কোনো সময়সূচি নির্ধারিত হয়নি।
দ্বিপাক্ষিক সফরের পাশাপাশি ভারত আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য [ব্রিকস (BRICS)] শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্যও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। যদি তিনি অংশ নিতে না পারেন, তবে বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেখানে যোগ দিতে পারেন বলে সম্ভাবনা রয়েছে।
