Touch Bangladesh
ঢাকাশনিবার , ২৯ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

পিঁপড়ের ছদ্মবেশে লাফানো মাকড়সা: অবাক করা প্রাণী ‘মিরমারাকনি’

প্রতিবেদক
Jetkin Tina Raksam
আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৩:০৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

প্রকৃতি ও বিজ্ঞান | বিবর্তন

পিঁপড়ের ছদ্মবেশে লাফানো মাকড়সা: চিনে নিন অদ্ভুত বিবর্তনের সৃষ্টি ‘মিরমারাকনি’

বিজ্ঞান ও পরিবেশ ডেস্ক | TouchBangladesh
২৯ আগস্ট, ২০২৬

প্রথম দেখায় এটিকে যেকোনো সাধারণ পিঁপড়ে বলেই ভুল হতে পারে। তবে আটটি পা, নিখুঁত লাফানোর ক্ষমতা এবং চমৎকার শিকার ধরার দক্ষতা দেখে বোঝা যায় এটি আসলে কোনো পিঁপড়ে নয়—লাফানো মাকড়সারই (Jumping Spider) একটি বিশেষ গণ ‘মিরমারাকনি’ (Myrmarachne)। প্রকৃতির তৈরি অন্যতম সেরা আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে এটি নিজের শরীরে পিঁপড়ের নিখুঁত ছদ্মবেশ ধারণ করে ঘুরে বেড়ায়।

মিরমারাকনির বৈজ্ঞানিক ও বিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্য

  • 🐜 নামের অর্থ: প্রাচীন গ্রিক শব্দ ‘মিরমেক্স’ (পিঁপড়ে) ও ‘আরাকনে’ (মাকড়সা) থেকে নামের উৎপত্তি, যার সরল অর্থ ‘পিঁপড়ে-মাকড়সা’।
  • 📜 নামকরণের ইতিহাস: ১৮৩৯ সালে ব্রিটিশ প্রকৃতিবিদ উইলিয়াম শার্প ম্যাকলে প্রথম এই গণের বৈজ্ঞানিক বর্ণনা দেন।
  • 🛡️ ছদ্মবেশের উদ্দেশ্য: পিঁপড়ের হুল ও বিষাক্ত কেমিক্যালের ভয়ে শিকারিরা দূরে থাকে, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আত্মরক্ষা করা।
  • 🔍 শারীরিক অভিনবত্ব: সামনের দুই পা তুলে পিঁপড়ের শুঁড়ের (Antenna) ভঙ্গি করা এবং দেহে তিন খণ্ডের বিভাজন দৃশ্যমান করা।

কেন এবং কীভাবে এই অদ্ভুত রূপান্তর?

প্রকৃতিতে পিঁপড়েদের কামড়, হুল, আক্রমণাত্মক আচরণ এবং রাসায়নিক প্রতিরক্ষার কারণে পাখি বা অন্যান্য শিকারিরা সাধারণত তাদের এড়িয়ে চলে। বিবর্তনের ধারায় যেসব মাকড়সার শারীরিক গড়ন কিছুটা পিঁপড়ের রূপ নিয়েছিল, প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে টিকে থাকার দৌড়ে তারা এগিয়ে যায়।

মিরমারাকনির দেহে বিশেষ সংকুচিত অংশ রয়েছে, যা দূর থেকে দেখলে মনে হয় পিঁপড়ের মাথা, বুক ও উদর আলাদা করা। সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, এরা স্থির অবস্থায় বা ধীরে হাঁটার সময় সামনের দুই পা উপরে তুলে রাখে—যা অবিকল পিঁপড়ের শুঁড়ের মতো দেখায়।

মিরমারাকনি ও সাধারণ পিঁপড়ের তুলনা

বৈশিষ্ট্য মিরমারাকনি (মাকড়সা) সাধারণ পিঁপড়ে
পায়ের সংখ্যা ৮টি (২টি শুঁড়ের মতো রাখে) ৬টি
শুঁড় (Antenna) বাস্তবে নেই (পায়ের ভঙ্গি করে) ১ জোড়া আসল শুঁড় রয়েছে
বিশেষ ক্ষমতা উচ্চমাত্রায় লাফানোর ক্ষমতা সাধারণ হাঁটাচলা
মূল প্রজাতি দৃষ্টান্ত M. melanocephala Tetraponera rufonigra

ট্যাক্সোনোমি ও প্রতিনিয়ত গবেষণার পরিবর্তন

১৮৩৯ সালে টাইপ প্রজাতি Myrmarachne melanocephala-র ওপর ভিত্তি করে ট্যাক্সোনোমিস্ট উইলিয়াম শার্প ম্যাকলে এই গণ প্রতিষ্ঠা করেন, যা দক্ষিণ এশিয়ার Tetraponera rufonigra পিঁপড়েকে অনুকরণ করে।

তবে একই প্রজাতির মধ্যে রঙ বা বয়সের কারণে ছদ্মবেশ বদলানোর কারণে উনিশ ও বিশ শতকে অনেক গবেষক বিভ্রান্ত হন। ডিএনএ বিশ্লেষণ ও আধুনিক ট্যাক্সোনোমির কল্যাণে আজও বিজ্ঞানীদের কাছে এই ‘পিঁপড়ে-মাকড়সা’ প্রাকৃতিক নির্বাচনের এক জীবন্ত বিস্ময় হিসেবে সমাদৃত।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।