![]()
আন্তর্জাতিক | মানবাধিকার
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর প্রবাসী নাগরিকদের মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ধর্মীয় রীতি মেনে শেষকৃত্য করতে না পারায় চরম আক্ষেপ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্বজনরা। চলতি বছরের জুনে সৌদি আরবে গাঁজা পাচারের দায়ে যে পাঁচজন ইথিওপিয়ান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল, ২৫ বছর বয়সী কিব্রম কিনফে আরেগাউই ছিলেন তাদেরই একজন। ছেলের মৃত্যুর পর তার শেষকৃত্যটুকুও করতে না পারার যন্ত্রণায় ভুগছে তার পরিবার।
ঘটনার মূল চমক ও তদন্তের সারসংক্ষেপ
💔 মৃতদেহ হস্তান্তরে অস্বীকৃতি: মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর প্রবাসীদের লাশ তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দিচ্ছে না সৌদি আরব সরকার।
⚖️ শীর্ষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশ: চীন ও ইরানের পর সৌদি আরবেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
✝️ ধর্মীয় আচারে বাধা: ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মৃতদেহ সমাহিত করতে না পারায় পরিবারগুলো চরম ক্ষুব্ধ।
😢 পরিবারের আজীবনের আক্ষেপ: শেষকৃত্যের অধিকারটুকু থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মানসিক ট্রমার শিকার হচ্ছে।
মৃতদেহ আটকে রাখার সমালোচনা ও অমানবিক নীতি
বিশ্বের যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, চীন ও ইরানের পরই সে তালিকায় ধারাবাহিকভাবে অবস্থান করছে সৌদি আরব। দেশটিতে মাদক চোরাচালান, সন্ত্রাসবাদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধে কঠোর শাস্তি হিসেবে নিয়মিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়ে থাকে। সৌদি আরবের প্রচলিত নিয়মে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর মৃতদেহগুলো সাধারণত সরকারের নিয়ন্ত্রণেই রাখা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয় না। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এটি একটি চরম অমানবিক পদক্ষেপ, যা নিহত ব্যক্তির পরিবারকে আজীবনের মতো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।
ধর্মীয় রীতিতে শেষকৃত্য থেকে বঞ্চিত পরিবার
কিনফে আরেগাউই নামের একজন বাবা আক্ষেপ করে বলেন, “পরিবার হিসেবে সান্ত্বনা পেতে আমরা সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা করেছি। কিন্তু আমি আমার সান্ত্বনা পাবো না। এটি আমার জন্য সারাজীবনের দুঃখ হয়ে থাকবে।” কিনফের মতো অনেক ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের বিশ্বাসের একটি অপরিহার্য উপাদান হলো আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মীয় নিয়মে প্রিয়জনকে সমাহিত করা। কিন্তু সৌদি সরকারের এই নীতি ও মৃতদেহ ফেরত না দেওয়ার কারণে পরিবারের সদস্যরা তাদের ধর্মীয় শেষ আচার পালন করতে পারছেন না।
মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বেগ ও সারাজীবনের যন্ত্রণা
বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, অপরাধের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও মৃত্যুর পর অন্তত মৃতদেহটির অধিকার পরিবারের কাছে থাকা উচিত। প্রিয়জনের মৃতদেহ ফেরত না পাওয়ায় পরিবারগুলো শুধু আপনজনকেই হারাচ্ছে না, বরং শেষকৃত্যের অধিকারটুকু থেকেও বঞ্চিত হয়ে সারাজীবনের এক গভীর যন্ত্রণার শিকার হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই নীতির তীব্র সমালোচনা হলেও এখনো নিয়মের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
