![]()
ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ফুটবল রোমাঞ্চের এক নাটকীয় সন্ধ্যায় ইংল্যান্ডকে ৩-২ গোলে পরাজিত করেছে স্পেন। উয়েফা নেশনস লিগের গ্রুপ ‘এ৩’-এর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করে থমাস টুখেলের শিষ্যদের হারিয়ে দিয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের টানা ৩৯ ম্যাচে অপরাজিত থাকার ঐতিহাসিক রেকর্ড আরও বাড়িয়ে নিল স্পেন।
ম্যাচের শুরুতেই ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। মাত্র ২ মিনিটে ইংল্যান্ড রক্ষণভাগের ডিফেন্ডার মার্ক গেহির মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে বল জালে জড়ান তিনি (১-০)।
তবে শুরুর এই ধাক্কা সামলে দ্রুতই খেলায় ফেরে স্বাগতিকরা। ৩৬ মিনিটে এক দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন (১-১)। এর ঠিক চার মিনিট পর, ৪০ মিনিটে অধিনায়ক হ্যারি কেইনের দূরন্ত হেড স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়ার গায়ে লেগে সামান্য দিক পরিবর্তন করে জালে আশ্রয় নিলে ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় থ্রি-লায়ন্সরা।
বিরতির পর ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্তটি আসে ৫৩ মিনিটে। ব্যবধান ৩-১ করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে পেনাল্টি শট নিতে গিয়ে পিছলে যান হ্যারি কেইন, বল গিয়ে সজোরে আঘাত করে ক্রসবারে।
ইংল্যান্ডের এই ভুলকে শাস্তি দিতে মোটেও দেরি করেনি স্পেন। ৫৯ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা অ্যালেক্স বায়েনা ডি-বক্সের দূরতম কোণ থেকে নেওয়া এক নিখুঁত শটে স্পেনকে সমতায় ফেরান (২-২)।
এরপর ৭৪ মিনিটে ঘটে সেই চূড়ান্ত নাটকীয়তা। ইউরো ২০২৪ ফাইনালের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে ইংলিশ গোলরক্ষক জেমস ট্রাফোর্ডকে বোকা বানিয়ে চমৎকার চিপে জয়সূচক গোলটি করেন মিকেল ওয়ারসাবাল (৩-২)।
ম্যাচের বাকি সময় দুই দলই বেশ কিছু আক্রমণ সাজালেও গোল পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় ইংল্যান্ড। পরিসংখ্যানের দিক থেকে বল দখলের লড়াইয়ে স্পেন সামান্য এগিয়ে ছিল (৫৩-৪৭%), যদিও আক্রমণের ধারে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। স্পেনের ১৫টি শটের বিপরীতে ইংল্যান্ড শট নিয়েছে ১৩টি।
গ্রুপ পর্বের এই মহারণের ফিরতি লেগে আগামী ১৬ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে আবারও মুখোমুখি হবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই দুই পরাশক্তি।
