Touch Bangladesh
ঢাকাবুধবার , ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

দুর্লভ রোগের ওষুধে ভারতকে শুল্ক মওকুফ করল যুক্তরাষ্ট্র

প্রতিবেদক
Louis Daru
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ৫:৪৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

অর্থনীতি

ভারত থেকে আমদানি করা দুর্লভ রোগের ওষুধে শতাংশভিত্তিক শুল্ক মওকুফ করল যুক্তরাষ্ট্র

ভারত ও আরও ১৯টি দেশ থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট বিশেষায়িত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র শূন্য শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটন ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে নির্দিষ্ট পেটেন্টকৃত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য ও উপাদানের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই ছাড়ের আওতায় রয়েছে দুর্লভ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ এবং আরও কয়েকটি বিশেষায়িত চিকিৎসা। পদক্ষেপটি ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্টের সেকশন ২৩২-এর অধীনে ফার্মাসিউটিক্যাল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত পরিবর্তনের অংশ।

“শূন্য শুল্ক মানে হলো — ভারত থেকে আসা যোগ্য ওষুধে অতিরিক্ত শতাংশভিত্তিক আমদানি শুল্ক দিতে হবে না। তবে এই ছাড় কেবল নির্দিষ্ট শ্রেণিতে প্রযোজ্য, এটিকে ভারতের সব ওষুধের জন্য সার্বিক ছাড় হিসেবে বোঝা উচিত নয়।”

জেনেরিক ওষুধ ও তাদের সংশ্লিষ্ট উপাদানও বর্তমানে সেকশন ২৩২-এর ফার্মাসিউটিক্যাল শুল্কের আওতার বাইরে রয়েছে।

অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্ক কী?

অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্ক হলো একটি আমদানি কর, যা কোনো পণ্যের মূল্যের শতাংশ হিসেবে গণনা করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ১,০০০ ডলার মূল্যের একটি ওষুধে ১০ শতাংশ অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্ক মানে অতিরিক্ত ১০০ ডলার শুল্ক। এই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র তালিকাভুক্ত দেশগুলো থেকে যোগ্য বিশেষায়িত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যে অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্কের হার শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করেছে।

কোন ওষুধগুলো শূন্য শুল্কের যোগ্য?

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে শূন্য শুল্ক হারের যোগ্য কয়েকটি বিশেষায়িত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের শ্রেণি চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে —

দুর্লভ রোগের ওষুধ: যেসব ওষুধের সব অনুমোদিত ব্যবহার দুর্লভ রোগ বা অবস্থার জন্য নির্ধারিত।

প্রজনন চিকিৎসা: বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় ব্যবহৃত নির্দিষ্ট ওষুধ।

সেল থেরাপি: চিকিৎসার অংশ হিসেবে কোষ ব্যবহারকারী বিশেষায়িত চিকিৎসা।

জিন থেরাপি: জিনগত উপাদান পরিবর্তন বা ব্যবহার করে কাজ করে এমন চিকিৎসা।

অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেটস (এডিসি): অ্যান্টিবডির সঙ্গে ওষুধের উপাদান মিলিয়ে তৈরি লক্ষ্যভিত্তিক ওষুধ।

প্লাজমা-উদ্ভূত থেরাপি: রক্তের প্লাজমা থেকে প্রাপ্ত উপাদান দিয়ে তৈরি চিকিৎসা।

প্রাণিস্বাস্থ্য পণ্য: প্রাণীর রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা বা প্রতিরোধে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট ওষুধ ও জৈবিক পণ্য।

এই যোগ্য পণ্যগুলোতে ব্যবহৃত সংশ্লিষ্ট উপাদানও শূন্য শতাংশ শুল্ক সুবিধা পেতে পারে।

যোগ্য ২০টি দেশের তালিকায় ভারত

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ শূন্য শুল্ক সুবিধার জন্য যে ২০টি এখতিয়ার তালিকাভুক্ত করেছে, ভারত তাদের একটি। তালিকায় আরও রয়েছে — আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও লিচেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ভিয়েতনাম।

বাণিজ্য বিভাগের মতে, এই এখতিয়ারগুলোর যোগ্য পণ্য শূন্য শুল্ক পেতে পারে, কারণ দেশগুলোর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান বা আসন্ন বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামো চুক্তি রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র কেন ১০০% ফার্মাসিউটিক্যাল শুল্ক আরোপ করছে?

শূন্য শুল্কের এই ঘোষণা এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিস্তৃত নীতির প্রেক্ষাপটে, যার লক্ষ্য ফার্মাসিউটিক্যাল আমদানি পরিবর্তন করা এবং দেশের ভেতরে আরও বেশি ওষুধ উৎপাদন উৎসাহিত করা। ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান আমদানি সংক্রান্ত একটি ঘোষণাপত্র জারি করেন। এতে নির্দিষ্ট পেটেন্টকৃত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য ও সংশ্লিষ্ট উপাদানে শুল্ক আরোপের বিধান ছিল, যা নির্দিষ্ট কোম্পানির জন্য ৩১ জুলাই এবং অন্য আওতাভুক্ত কোম্পানির জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়।

জেনেরিক ওষুধের কী হবে?

জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য ও তাদের সংশ্লিষ্ট উপাদান বর্তমানে সেকশন ২৩২-এর ফার্মাসিউটিক্যাল শুল্কের আওতায় নেই। এই পার্থক্য ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প বৈশ্বিক জেনেরিক ওষুধ বাজারে বড় উপস্থিতি রাখে। তাই নতুন শুল্ক কাঠামোর অর্থ এই নয় যে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা সব ওষুধে হঠাৎ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপিত হবে।

বাণিজ্য বিভাগ ফার্মাসিউটিক্যাল শুল্ক কাঠামোর মধ্যে সংজ্ঞাগুলোও স্পষ্ট করেছে, যার মধ্যে রয়েছে — কোনটি ফার্মাসিউটিক্যাল আর্টিকেল এবং কোনটি জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

এই ছাড়ের অর্থ হলো — যোগ্য ভারতীয় বিশেষায়িত ওষুধ অতিরিক্ত অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। এটি যোগ্য পণ্য রপ্তানিকারী কোম্পানিগুলোর সম্ভাব্য শুল্ক-সংক্রান্ত ব্যয়ের বোঝা কমাতে পারে। তবে এই সুবিধা কেবল নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী পণ্য ও উপাদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এটি ভারতের পুরো ফার্মাসিউটিক্যাল খাতকে সার্বিক ছাড় দেয় না।

⚠️ N:B / দৃষ্টি আকর্ষণ

এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-তে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জনস্বার্থে ও বাণিজ্য-সংক্রান্ত জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে পুনঃপ্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদের মূল সূত্র এনডিটিভি (NDTV), লেখক দেবসমিতা ঘোষ। এখানে উল্লেখিত শুল্ক নীতি, তথ্য, তালিকা ও বক্তব্য সংশ্লিষ্ট মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে — যা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। এখানে উপস্থাপিত তথ্য, মন্তব্য বা দাবির জন্য TouchBangladesh কোনোভাবেই দায়ী নয়। পাঠকদের অনুরোধ — বাণিজ্য-সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তের আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল সূত্র যাচাই করুন।

© TouchBangladesh — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।