Touch Bangladesh
ঢাকাশনিবার , ৩ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

কোন ভিটামিনের অভাবে মানুষ দ্রুত সবকিছু ভুলে যায়?

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
অক্টোবর ৩, ২০২৬ ২:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

দৈনন্দিন জীবনের নানা ব্যস্ততায় দরকারি জিনিস বা তথ্য ভুলে যাওয়া বেশ পরিচিত ঘটনা। তবে এই ভুলে যাওয়ার প্রবণতা যদি ঘন ঘন হতে থাকে, তবে সেটিকে কেবল সাধারণ ক্লান্তি বা বয়সের প্রভাব বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া ভুল হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মৃতিশক্তির ঘাটতি বা আলঝেইমারের মতো জটিলতার নেপথ্যে শরীরে নির্দিষ্ট এক ভিটামিনের ঘাটতি বড় ভূমিকা রাখে।

সেই অপরিহার্য পুষ্টি উপাদানটি হলো ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12)।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন বি১২?

ভিটামিন বি১২ মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে এবং রক্তকণিকা (রেড ব্লাড সেল) তৈরিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। মস্তিষ্কের তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংকেত আদান-প্রদানের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখতে এই ভিটামিন আবশ্যক।

শরীরে বি১২-এর ঘাটতি দেখা দিলে বেশ কিছু লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে:

  • মানসিক বিভ্রান্তি ও মনোযোগের অভাব

  • সাম্প্রতিক ঘটনা দ্রুত ভুলে যাওয়া

  • শরীরে তীব্র অবসাদ ও দুর্বলতা

  • হাত ও পায়ে ঝিনঝিন করা বা অবশ ভাব

কীভাবে মেটাবেন এই ভিটামিনের ঘাটতি?

মানবদেহ নিজে থেকে ভিটামিন বি১২ তৈরি করতে পারে না। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সঠিক পুষ্টিকর খাবার অন্তর্ভুক্ত করাই ঘাটতি পূরণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

খাবারের ধরণ প্রধান উৎস পুষ্টিগুণ ও কার্যকারিতা
দুগ্ধজাত খাবার দুধ, দই, পনির বি১২-এর অন্যতম সহজ ও প্রাকৃতিক উৎস, যা প্রতিদিনের সুষম খাবারে সহজেই যোগ করা যায়।
প্রাণীজ প্রোটিন মাছ, খাসি ও মুরগির মাংস শরীরে ভিটামিন বি১২-এর চাহিদার বড় অংশ মেটাতে সক্ষম।
ডিম ডিমের কুসুম ও সাদা অংশ প্রোটিনের পাশাপাশি বি১২-এর জোগান দেয়। প্রাতরাশে ডিম রাখা বেশ উপকারী।
উদ্ভিজ্জ খাদ্য সয়া দুধ, টোফু, ফোর্টিফাইড খাদ্য নিরামিষভোজীদের জন্য বি১২ পাওয়ার অন্যতম ভালো বিকল্প।

ঘন ঘন ভুলে যাওয়া বা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে স্বাদ বা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তের বি১২ মাত্রা পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।

ভিটামিন বি১২ একটি প্রোটিন-সংযুক্ত ভিটামিন, যা মূলত প্রাণিজ খাদ্যে বেশি থাকে। শরীরে বি১২-এর দৈনিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এটি যেন সঠিকভাবে শোষিত (absorption) হতে পারে, সেদিকে খেয়াল রেখে খাদ্যতালিকা তৈরি করতে হয়।

এখানে একটি আদর্শ খাদ্যতালিকা এবং তা তৈরির সুনির্দিষ্ট নিয়ম দেওয়া হলো:

১. দৈনিক নমুনা খাদ্যতালিকা (Sample Diet Plan)

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রায় ২.৪ মাইক্রোগ্রাম (mcg) ভিটামিন বি১২ প্রয়োজন হয়। নিচের নমুনা তালিকাটি অনুসরন করলে দৈনন্দিন চাহিদা সহজেই পূরণ হবে:

সকালের নাস্তা

  • ১টি সিদ্ধ ডিম (সাদা অংশ ও কুসুমসহ) — বি১২: প্রায় ০.৬ mcg

  • ১ কাপ ফোর্টিফাইড ওটস বা শস্যদানা (বি১২ যুক্ত) — বি১২: ১.৫ – ২.০ mcg

  • ১ গ্লাস ফোর্টিফাইড সয়া মিল্ক বা সাধারণ দুধ (২৫০ মি.লি.) — বি১২: ১.২ mcg

দুপুরের খাবার

  • লাল চালের ভাত বা রুটি

  • ১ টুকরো রুই, কাতলা বা ইলিশ মাছ (বা ১০০ গ্রাম মুরগির মাংস) — বি১২: ১.৫ – ২.৫ mcg

  • ১ বাটি ডাল ও প্রচুর শাকসবজি/সালাদ

বালের নাস্তা

  • ১ কাপ মিষ্টি দই বা টক দই (২০০ গ্রাম) — বি১২: ১.০ mcg

  • ১ মুঠো বাদাম (কাঠবাদাম বা কাজুবাদাম)

রাতের খাবার

  • হালকা ভাত বা লাল আটার রুটি

  • ১০০ গ্রাম সামুদ্রিক মাছ (যেমন: রূপচাঁদা, টিউনা বা পাবদা) অথবা খাসি/গরুর মেটে (কলিজা) — কলিজায় প্রচুর বি১২ থাকে (মাত্র ৫০ গ্রামেই দৈনিক চাহিদার কয়েকগুণ মিলবে)

  • ১ বাটি সবজি সবজি তরকারি

২. খাদ্যতালিকা তৈরির মূল নিয়মাবলী

ভিটামিন বি১২ ঘাটতি পূরণ ও তা বজায় রাখতে খাদ্যতালিকা তৈরির সময় নিচের ৫টি নিয়ম মেনে চলতে হবে:

  • প্রাণিজ প্রোটিনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা: ভিটামিন বি১২ প্রাকৃতিকভাবে উদ্ভিজ্জ খাবারে থাকে না। তাই প্রতিদিনের খাবারে ডিম, দুধ, মাছ বা মাংসের অন্তত একটি পদ নিশ্চিত করতে হবে।

  • নিরামিষাশীদের জন্য ‘ফোর্টিফাইড’ খাদ্য: যারা নিরামিষ পছন্দ করেন (Vegetarian), তাদের খাদ্যে অবশ্যই বি১২ Fortified (ভিটামিন কৃত্রিমভাবে যুক্ত করা) খাদ্য যেমন—ফোর্টিফাইড নুডলস, ওটস, সয়া মিল্ক বা নিউট্রিশনাল ইস্ট (Nutritional Yeast) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

  • পাকস্থলী ও হজমশক্তি ভালো রাখা: ভিটামিন বি১২ শোষণের জন্য পাকস্থলীতে Intrinsic Factor নামের একটি প্রোটিনের প্রয়োজন হয়। অতিরিক্ত অ্যাসিডিটির ওষুধ খাওয়া বা হজমের সমস্যা থাকলে বি১২ ঠিকমতো শোষিত হয় না। তাই অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এড়িয়ে সুষম খাবার খেতে হবে।

  • অতিরিক্ত সেদ্ধ/রান্না না করা: অতিরিক্ত তাপে বা দীর্ঘসময় ধরে উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করলে খাবারে থাকা ভিটামিন বি১২-এর গুণাগুণ প্রায় ৩০-৪০% নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ডিম বা দুধ অতিরিক্ত তাপে বারবার ফোটানো উচিত নয়।

  • পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ: শরীরে ভিটামিন বি১২ শোষণে ক্যালসিয়াম সাহায্য করে। তাই বি১২ সমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি (যেমন: রোদের তাপ, দুধ) গ্রহণ করা জরুরি।

বিশেষ পরামর্শ: যদি রক্ত পরীক্ষায় ভিটামিন বি১২-এর পরিমাণ অত্যন্ত কম আসে (Severely deficient), তবে কেবল খাদ্যতালিকা দিয়ে দ্রুত ঘাটতি পূরণ নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বি১২ সাপ্লিমেন্ট (ট্যাবলেট বা ইনজেকশন) গ্রহণ করা আবশ্যক।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।