![]()
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ সংলগ্ন এলাকায় রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান তেল কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’-র জ্বালানি অবকাঠামোয় ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। শনিবার (৩ অক্টোবর) ঘটে যাওয়া এ হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রিয়াদের দক্ষিণাঞ্চলের তেল শোধনাগার এলাকা থেকে বিশাল আগুনের শিখা ও ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি সেবা দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
- 🚀 আক্রমণের ধরন: রিয়াদের আরামকো শোধনাগারকে লক্ষ্য করে সমন্বিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।
- 🗣️️ হুতিদের দাবি: সানাসহ হুতি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক ৬০টি বিমান হামলার পাল্টা জবাব।
- 🔥 বর্তমান অবস্থা: শোধনাগারে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিস।
- 🌊 কৌশলগত রুট: লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ ও সামরিক সংঘর্ষ আরও জোরালো।
সৌদি বিমান হামলার জবাবে পাল্টা আঘাতের বার্তা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জানান, ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ হুতি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি জোটের প্রায় ৬০টি বিমান হামলার কঠোর জবাব হিসেবেই রিয়াদের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। হুতিদের দাবি, তাদের এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরই রিয়াদের কাছে আরামকোর শোধনাগারটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ বা আগুনের আনুষ্ঠানিক কারণ নিয়ে সৌদি সরকার বা আরামকো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাব আল-মানদেব প্রণালি ও লোহিত সাগরের সামরিক উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান বহুমুখী সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। গত জুলাই মাস থেকে নতুন করে সৌদি-হুতি প্রত্যক্ষ সংঘাত উসকে ওঠার পর হুতি যোদ্ধারা লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নিজেদের আধিপত্য জোরদার করেছে। এই কৌশলগত নৌপথ মুক্ত রাখতে সৌদি ও ইয়েমেনের সরকারি সামরিক বাহিনী হুতিদের সাথে যৌথভাবে তীব্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
হুতিদের কোণঠাসা করতে পশ্চিমা সহায়তায় বড় অভিযানের প্রস্তুতি
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী দাবি করেছে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের স্থল ও আকাশ হামলায় শত শত হুতি যোদ্ধা হতাহত হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে হুতি বিদ্রোহীদের পুরোপুরি কোণঠাসা ও পরাস্ত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা মিত্রদের সাথে সমন্বয় করে একটি বিশাল সামরিক অভিযান শুরুর পরিকল্পনা করছে সৌদি সমর্থিত যৌথ বাহিনী।
সৌদি-হুতি সংঘাত ও রিয়াদ হামলার মূল তথ্য
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|
| আক্রান্ত স্থাপনা | রিয়াদের কাছে অবস্থিত ‘সৌদি আরামকো’ শোধনাগার |
| আক্রমণকারী ও মুখপাত্র | ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী (ইয়াহিয়া সারি) |
| আক্রমণের কারণ (হুতি দাবি) | সানাসহ হুতি অঞ্চলে সৌদির ৬০টি বিমান হামলার জবাব |
| কৌশলগত অর্থনৈতিক প্রভাব | লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালিতে অচলাবস্থা ও জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা |
