![]()
কৃষ্ণসাগরে বুলগেরিয়ার উপকূলের কাছে ড্রোন হামলায় একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। এ ঘটনায় জাহাজটির ১১ নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। ডুবে যাওয়া জাহাজটি থেকে পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। একই রাতে আরও একটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বুলগেরিয়ার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে দেশটির কৃষ্ণসাগরীয় এলাকায় ড্রোন হামলায় দ্বিতীয়বারের মতো প্রাণঘাতী জাহাজডুবির ঘটনা ঘটল।
বুলগেরিয়ার উপকূলে জাহাজডুবি
বুলগেরিয়ার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে দুটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে একটি জাহাজ ডুবে যায়। জাহাজটি বুলগেরিয়ার ক্রাপেতস গ্রামের উপকূলের কাছে ডুবে গেছে।
বুলগেরিয়ার সংবাদমাধ্যমের খবরে ডুবে যাওয়া জাহাজটির নাম বলা হয়েছে ‘আজভ কনকর্ড’। জাহাজটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা তুরস্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব
ঘটনার পর রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে বুলগেরিয়া। তবে হামলার জন্য মস্কোকে সরাসরি দায়ী করেনি দেশটি।
বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ বলেছেন, হামলার পরিণতি রাশিয়ার স্বার্থের অনুকূলে যাচ্ছে। টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, বুলগেরিয়ার আঞ্চলিক জলসীমার একেবারে কাছে এ ধরনের আরেকটি হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
এ ঘটনায় রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরেকটি জাহাজেও ড্রোন হামলা
একই রাতে মাল্টার পতাকাবাহী ‘চেলসি থ্রি’ নামের আরেকটি পণ্যবাহী জাহাজেও তিনটি ড্রোন আঘাত হানে বলে জানিয়েছেন বুলগেরিয়ার কর্মকর্তারা।
জাহাজটির সব নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের মধ্যে সাতজন ইউক্রেনের এবং আটজন আজারবাইজানের নাগরিক। তাঁদের কেউ গুরুতর আহত হননি।
এক সপ্তাহে দ্বিতীয় জাহাজডুবি
এর আগে, ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে বুলগেরিয়ার কৃষ্ণসাগরের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে ড্রোন হামলায় আরেকটি জাহাজ ডুবে যায়। ওই ঘটনায় নয়জন সিরীয় ও একজন মিসরীয় নাবিক নিখোঁজ হন।
সেদিন আরেকটি জাহাজেও হামলা হয়েছিল। তবে ওই জাহাজের সব নাবিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে পরপর এমন হামলা ও জাহাজডুবির ঘটনায় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
