![]()
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও মার্কিন ডলারের দাম কমে যাওয়ায় স্বর্ণের দাম বেড়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদের হার বৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বিনিয়োগকারীরা এখন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৮৬ দশমিক ৯১ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার দর ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১১ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়ায়।
মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকে নজর
স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেনের মতে, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশ করা হবে। এসব তথ্য স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুর বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
বুধবার প্রকাশিত হওয়ার কথা সেপ্টেম্বরের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই)। বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হবে উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) ও খুচরা বিক্রির তথ্য। এ ছাড়া শুক্রবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের।
হ্যানসেন বলেন, এসব তথ্য ও বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে স্বল্পমেয়াদে সরকারি বন্ডের মুনাফার হার, মার্কিন ডলারের মূল্য এবং মূল্যবান ধাতুর বাজারের গতিপথ নির্ধারিত হতে পারে। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও দেখা যাচ্ছে।
ডলারের দরপতনে স্বর্ণের বাজারে প্রভাব
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক দরপতনের দিকে এগোচ্ছে তেলের বাজার। একই সময়ে ১৮ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা নেমে এসেছে মার্কিন ডলারের দর।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের মুনাফার হার কমে গত ২ অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সাধারণত বন্ডের মুনাফার হার কমলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদ ধরে রাখার সুযোগব্যয় কমে যায়। এতে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ বাড়তে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ডলারে নির্ধারিত হওয়ায় মার্কিন মুদ্রার দর কমলেও স্বর্ণের দাম বাড়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সুদের হার বাড়ানো নিয়ে কী ধারণা বাজারে?
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল রিজার্ভকে তুলনামূলক দ্রুত কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাক। তাঁর মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তবে বাজারের পূর্বাভাসে চলতি মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা মাত্র ১৭ শতাংশ ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮৭ শতাংশ বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা। শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের (সিএমই) ফেডওয়াচ টুলের তথ্যে এমন পূর্বাভাস উঠে এসেছে।
বছর শেষে স্বর্ণের দাম বাড়তে পারে?
ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভোর মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনার প্রবণতা, সরকারি ঋণ বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ এবং ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো স্বর্ণের বাজারকে সহায়তা দিতে পারে।
তাঁর ধারণা, বছরের শেষ দিকে এবং ২০২৭ সালেও স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল হওয়ার পর আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে স্বর্ণের দামের গতিপথ নির্ভর করবে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বিনিয়োগকারীদের চাহিদার ওপর।
রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও বেড়েছে
স্বর্ণের পাশাপাশি মঙ্গলবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে ৬০ দশমিক ৪৪৮১ ডলারে পৌঁছেছে।
একই সময়ে প্লাটিনামের দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭০১ দশমিক ১০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৪৯ দশমিক ৫২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স।
