![]()
টপকে আসা নানা ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা ল্যাপটপ-মোবাইল ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আর কষ্ট করে ঢাকায় পাঠাতে হবে না। এখন থেকে চট্টগ্রাম বিভাগেই এই সেবা পাওয়া যাবে। বুধবার (দামপাড়া পুলিশ লাইনস্, চট্টগ্রাম) অবস্থিত সিআইডি কার্যালয়ের পাশে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষায়িত ‘সাইবার পুলিশ সেন্টার’-এর উদ্বোধন করা হয়। কোরিয়ান সহায়তায় প্রায় ৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ল্যাব চালুর ফলে সাইবার অপরাধ তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা ও সময়ক্ষেপণ কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
- 🏢 অবস্থান ও উদ্বোধন: দামপাড়া পুলিশ লাইনস্, চট্টগ্রাম সিআইডি কার্যালয় প্রাঙ্গণে নতুন সাইবার পুলিশ সেন্টার চালু।
- 💰 প্রকল্প ব্যয় ও সহায়তা: ৫৯ কোটি ৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) সহায়তা।
- 🔬 ডিজিটাল ল্যাব: মোবাইল ও কম্পিউটার ফরেনসিক ল্যাব, যেখানে ড্রোন, ট্যাব, হার্ডড্রাইভ এবং জিপিএস ডিভাইস থেকে ডেটা উদ্ধার সম্ভব।
- ⚖️ মামলার জট হ্রাস: বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে চলমান হাজারো মামলা ও তদন্তের জট ও সময়ক্ষেপণ কমবে।
ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আর যেতে হবে না ঢাকায়
সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরে বিপুল সংখ্যক ডিভাইসসহ বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তারের পর তাদের উদ্দেশ্য ও আলামত বিশ্লেষণে ঢাকায় সিআইডি ল্যাবের ওপর নির্ভর করতে হতো। এছাড়া কক্সবাজারসহ চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলায় সাইবার অপরাধের তদন্তে ডিভাসগুলো ঢাকায় পাঠানোয় মারাত্মক সময়ক্ষেপণ হতো। নতুন এই সেন্টারের ফলে এখন থেকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব এবং বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তির আলামতের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা স্থানীয়ভাবেই সম্পন্ন করা যাবে।
সাইবার অপরাধের ধরন ও ট্রাইব্যুনালের মামলার চাপ
অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর সাইবার অপরাধ যেমন—অনলাইন আর্থিক জালিয়াতি, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার, জুয়া এবং অ্যাকাউন্ট দখলের ঘটনা বাড়ছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ১ হাজার ১১টি মামলা বিচারাধীন ও বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। যার মধ্যে পাঁচ থেকে দশ বছরের বেশি পুরোনো মামলাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় রয়েছে। সাইবার পুলিশ সেন্টার চালুর ফলে এসব মামলার তদন্ত ও আলামত বিশ্লেষণ অনেক দ্রুত শেষ হবে।
সাইবার পুলিশ সেন্টারে যে ধরনের পরীক্ষা ও ডেটা উদ্ধার সম্ভব
চারতলা বিশিষ্ট এই সাইবার সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক মোবাইল ও কম্পিউটার ফরেনসিক ল্যাব। অপরাধ ঢাকতে মুছে ফেলা বা ডাম্প করা ডেটা, মেমোরি কার্ড, হার্ডড্রাইভ, জিপিএস এবং ড্রোন থেকে গোপন তথ্য উদ্ধারে সক্ষম এই ল্যাব। এছাড়া কল রেকর্ড, এসএমএস, ডার্ক ও ডিপ ওয়েবসাইটের হোয়াইট কলার ক্রিমিনালদের তথ্য, এবং বিভিন্ন মেসেঞ্জার ও ক্লাউড ড্রাইভের ডিজিটাল আলামত নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করতে পারবে পুলিশ।
চট্টগ্রাম সাইবার পুলিশ সেন্টার একনজরে
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও তথ্যসমূহ |
|---|---|
| প্রকল্পের নাম ও অবস্থান | চট্টগ্রাম দামপাড়া পুলিশ লাইনস্ সংলগ্ন সিআইডি কার্যালয় |
| নির্মাণ ব্যয় ও সহায়তা | প্রায় ৫৯ কোটি ৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা (কোইকা ও সিআইডি ঢাকা) |
| প্রধান সুবিধা | ডিজিটাল ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আর ঢাকা পাঠাতে হবে না |
| পরীক্ষাধীন আলামত | ল্যাপটপ, মুঠোফোন, ট্যাব, জিপিএস, হার্ডড্রাইভ ও ড্রোন |
