![]()
মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার সীমান্ত দিয়ে লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। তবে সীমান্তে নজরদারি ও টহল জোরদার করে এসব চেষ্টা প্রতিহত করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত তিন দিনে অন্তত ৩০ জনের পুশইন ঠেকানোর কথা জানিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীটি।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ড্রোন ক্যামেরা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি দিন-রাত টহলও জোরদার করা হয়েছে।
সীমান্তে বসবাসকারী লোকজন ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার পাল্লাথল, নিউ পাল্লাথল, গান্ধাই ও কুমারশাইল এবং জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ও লাঠিটিলাসহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে গত কয়েক দিন ধরে পুশইনের চেষ্টা চলছে। এসব এলাকার কিছু অংশ দুর্গম পাহাড়ি ও ঘন বনাঞ্চলসংলগ্ন হওয়ায় নজরদারিতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে বিজিবি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় এসব পয়েন্টে অন্তত ৩০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। কয়েকটি ঘটনায় পুশইন নিয়ে বিএসএফ ও বিজিবি সদস্যদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডাও হয়েছে।
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, পুশইনের চেষ্টার মধ্যে ভারতীয় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিও রয়েছেন। রোববার সন্ধ্যায় জুড়ী সীমান্তে দ্বিতীয়বারের মতো এক ভারতীয় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা প্রতিহত করে বিজিবি।
বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান সুজন বলেন, গত তিন দিনে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় বিএসএফের ঠেলে দেওয়া অন্তত ৩০ জনের পুশইন প্রতিহত করা হয়েছে।
তিনি জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ড্রোন ক্যামেরা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্তে দিন-রাত টহল দেওয়া হচ্ছে।
বিজিবি বলছে, সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিরোধে এই সতর্কতা ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
