![]()
পুলিশের মহাপরিচালকের (আইজিপি) ‘প্রয়োজনে ও অনুমতি সাপেক্ষে ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলামের সই করা এক বিবৃতিতে সরকারের কাছে এই বক্তব্যের বিষয়ে স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ব্যাখ্যা দাবি করা হয়েছে।
- ⚠️ তীব্র নিন্দা: বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনাকে সরকারি অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত করার বক্তব্য আইনের শাসনের পরিপন্থী।
- 📜 সাংবিধানিক অধিকার: সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সব নাগরিকের জন্য সুরক্ষিত।
- 🏛️ সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান: বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সরকার অনুমোদনযোগ্য মনে করে কি না, তা পরিষ্কার করার দাবি।
‘ক্রসফায়ার বিচারিক প্রক্রিয়ার বিকল্প হতে পারে না’
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলেও তা অবশ্যই আইনসম্মত প্রক্রিয়া, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচার বিভাগের কর্তৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে করতে হবে। কোনো ব্যক্তি অপরাধে অভিযুক্ত হলেই তার জীবন ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার খর্ব করার কোনো সুযোগ নেই। সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী জীবন ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। তাই ‘ক্রসফায়ার’ কোনোভাবেই বিচারিক প্রক্রিয়ার বিকল্প হতে পারে না বলে জোরালো দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আইজিপির বক্তব্য ব্যক্তিগত নাকি সরকারের অবস্থান—প্রশ্ন
আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে এইচআরএসএস বলেছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সরকার অনুমোদনযোগ্য মনে করে কি না, নাকি এই বক্তব্য কেবল পুলিশপ্রধানের ব্যক্তিগত মতামত—তা স্পষ্ট করা জরুরি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান এবং জবাবদিহি নিশ্চিতের অঙ্গীকার প্রত্যাশা করে সংগঠনটি। অপরাধ দমনে রাষ্ট্রের শক্তি প্রয়োগের বৈধতা কখনোই বিচারবহির্ভূত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে না, বরং তা আইনের প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
