![]()
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি যুক্ত করা প্রাক-ক্যানসার ও রক্তের ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু রোগীর জন্য উপকারী হতে পারে। সাম্প্রতিক এক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এমন ইঙ্গিত পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যান অ্যান্ডেল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা। তবে এই ফলাফলকে এখনই ব্লাড ক্যানসারের স্বীকৃত চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট ধরনের রক্তের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভিটামিন সি গ্রহণের সঙ্গে শারীরিক জটিলতা কমা এবং বেঁচে থাকার হারের উন্নতির সম্পর্ক থাকতে পারে। গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যতে ক্যানসার প্রতিরোধ ও চিকিৎসার নতুন পথ খুঁজতে সহায়তা করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
কী পাওয়া গেছে গবেষণায়?
লিউকেমিয়ায় রূপ নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে—এমন রক্তের রোগে আক্রান্ত ১০৯ জনকে নিয়ে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকের বেশি মানুষের শরীরে ভিটামিন সি-এর ঘাটতি ছিল।
গবেষণার অংশ হিসেবে এক বছর ধরে অংশগ্রহণকারীদের একটি দলকে প্রতিদিন ১ হাজার মিলিগ্রাম ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়। অন্য দলকে দেওয়া হয় প্লাসিবো বা কার্যকর উপাদানবিহীন বিকল্প।
তিন বছর পর গবেষকেরা দেখতে পান, ভিটামিন সি গ্রহণকারী দলের রোগীদের শারীরিক জটিলতা তুলনামূলক কম ছিল। পাশাপাশি অন্য দলের তুলনায় তাঁদের বেঁচে থাকার হারও বেশি দেখা যায়।
তবে এই ফলাফল কতটা নির্ভরযোগ্য এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের উপকার পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
শরীরে কীভাবে কাজ করতে পারে ভিটামিন সি?
ভিটামিন সি শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা বজায় রাখা, কোলাজেন তৈরি এবং কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গবেষকদের ধারণা, ভিটামিন সি কোষের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এনজাইমের কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে। এসব এনজাইম কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও জিনের কার্যপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। ফলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অস্বাভাবিক রক্তকোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ভিটামিন সি সহায়ক হতে পারে।
তবে এই প্রক্রিয়া কীভাবে রোগের অগ্রগতি বা রোগীর বেঁচে থাকার ওপর প্রভাব ফেলে, তা আরও বিস্তারিতভাবে বোঝা প্রয়োজন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই গবেষণা?
লিউকেমিয়ায় রূপ নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে—এমন কিছু রক্তের রোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করাই চিকিৎসার অন্যতম পদ্ধতি। রোগের অগ্রগতি এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে পরবর্তী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে ভিটামিন সি যদি ভবিষ্যতে বড় পরিসরের গবেষণায় কার্যকর প্রমাণিত হয়, তবে ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ব্যবস্থাপনায় এটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
তবে বর্তমান গবেষণার ফলাফলকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নেওয়া ঠিক হবে না। আরও বড় পরিসরে এবং দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা যাচাই করা জরুরি।
ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট কি নিজে থেকে খাওয়া উচিত?
গবেষণায় প্রতিদিন ১ হাজার মিলিগ্রাম ভিটামিন সি ব্যবহারের কথা বলা হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই মাত্রায় সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়। অতিরিক্ত ভিটামিন সি কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পেটের সমস্যা বা ডায়রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে—এমন ব্যক্তিদেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
বিশেষ করে রক্তের ক্যানসার বা ক্যানসারের পূর্ববর্তী কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ভিটামিন সি-কে প্রচলিত চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
সূত্র: সায়েন্সডেইলি
