Touch Bangladesh
ঢাকাশুক্রবার , ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর গণকবরের মহড়া, কেন এই প্রস্তুতি?

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ৩:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত সেনাদের মরদেহ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ মহড়া চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। দীর্ঘ কয়েক দশক পর এই প্রথম যুদ্ধের ময়দানে অস্থায়ী গণকবর তৈরির কৌশল অনুশীলন করলেন মার্কিন সেনারা।

নর্থ ক্যারোলাইনায় অবস্থিত ফোর্ট ব্র্যাগ সামরিক ঘাঁটিতে সম্প্রতি এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিপুলসংখ্যক সেনা নিহত হলে কীভাবে দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে তাঁদের মরদেহ সংরক্ষণ এবং দাফনের ব্যবস্থা করা যায়, তা পরীক্ষা করে দেখা হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর এ ধরনের অনুশীলনে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছে মার্কিন সেনারা। ওই যুদ্ধে প্রায় ৩৭ হাজার মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর যুদ্ধক্ষেত্রে নিহতদের মরদেহ ব্যবস্থাপনার নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে পেন্টাগন।

পরবর্তী সময়ে ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো মার্কিন সেনা নিহত হলে তাঁর মরদেহ দ্রুত বিমানে করে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হতো। কিন্তু সম্ভাব্য বড় সংঘাতে আকাশপথে মরদেহ সরিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে—এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই নতুন করে এই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

মহড়ায় অংশ নেয় থার্ড কোর সাসটেইনমেন্ট কমান্ড, ২০তম ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড এবং সামরিক চ্যাপ্লেনদের একটি দল। তাঁরা ভারী যন্ত্রপাতি ও এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করে কীভাবে অল্প সময়ে অস্থায়ী সমাধিস্থল তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন।

তবে এই প্রস্তুতির উদ্দেশ্য শুধু মরদেহ দাফন করা নয়। নিহত সেনাদের মরদেহ যথাসম্ভব অক্ষত রাখা, পরিচয় শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ এবং যুদ্ধ শেষে যথাযথ মর্যাদায় তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও মহড়ায় গুরুত্ব পেয়েছে।

মহড়ায় অংশ নেওয়া থার্ড কোর সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফার্স্ট ক্লাস সার্জেন্ট ডেলবার্ট রুয়েড বলেন, যুদ্ধের সময় নিহত সহযোদ্ধাদের মরদেহ কীভাবে সর্বোচ্চ সম্মান ও নিয়ম মেনে ব্যবস্থাপনা করা যায়, সেটিই এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য।

তাঁর মতে, হঠাৎ বড় ধরনের সংঘাত শুরু হলে যেন তাৎক্ষণিকভাবে বিশৃঙ্খল সিদ্ধান্ত নিতে না হয়, সে জন্য আগে থেকেই একটি পরীক্ষিত পদ্ধতি তৈরি রাখা জরুরি। একই সঙ্গে প্রতিটি মরদেহের সঠিক হিসাব ও পরিচয় নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে সেনাবাহিনীর ধর্মীয় গুরু বা চ্যাপ্লেনরাও প্রায় দুই দশক পর রণক্ষেত্রে অস্থায়ী দাফন এবং ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনের বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিহত সেনাদের মরদেহ আকাশপথে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এমন সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আগাম প্রস্তুতি জোরদার করছে। তবে এই মহড়াকে ইরানে হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সূত্র: এনডিটিভি

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।