Touch Bangladesh
ঢাকাশুক্রবার , ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আই ড্রপ ব্যবহারে বাড়ে গ্লকোমার ঝুঁকি

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১:৫৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

দীর্ঘ সময় মোবাইল ও কম্পিউটারের পর্দায় তাকিয়ে থাকা, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে কাজ করা কিংবা চোখের অ্যালার্জির কারণে দেখা দিতে পারে চোখ লাল হওয়া, জ্বালাপোড়া ও শুষ্কতার সমস্যা। এসব উপসর্গ দেখা দিলে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে ওষুধের দোকান থেকে আই ড্রপ কিনে ব্যবহার করেন। এতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও কিছু আই ড্রপের অনিয়ন্ত্রিত ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার ডেকে আনতে পারে চোখের গুরুতর ক্ষতি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ করে স্টেরয়েডযুক্ত আই ড্রপ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের ড্রপ চোখের লাল ভাব ও প্রদাহ দ্রুত কমিয়ে দেয়। ফলে অনেকেই মনে করেন, চোখের সমস্যা সেরে গেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন এসব ড্রপ ব্যবহার করলে চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ বেড়ে যেতে পারে। এতে তৈরি হয় গ্লকোমার ঝুঁকি।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে বলা হয় ‘স্টেরয়েড ইনডিউসড গ্লকোমা’। এতে চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে অপটিক নার্ভ বা দৃষ্টিস্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, চোখের চাপ বাড়লেও প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে রোগটি শনাক্ত হওয়ার আগেই দৃষ্টিস্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ স্টেরয়েডযুক্ত ড্রপ ব্যবহারের পরও চোখের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

স্টেরয়েড ড্রপে বাড়তে পারে ছানির ঝুঁকিও

স্টেরয়েডযুক্ত আই ড্রপের আরেকটি সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো চোখে ছানি পড়া। দীর্ঘদিন কিংবা বারবার এ ধরনের ড্রপ ব্যবহার করলে তুলনামূলক কম বয়সেও ছানি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

শুধু তা-ই নয়, চোখে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণ থাকলেও স্টেরয়েড ড্রপ বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এসব ড্রপ ব্যবহারে সাময়িকভাবে লাল ভাব ও প্রদাহ কমে গেলেও সংক্রমণ পুরোপুরি সেরে যায় না। বরং জীবাণুর বিস্তার অব্যাহত থাকতে পারে। এতে সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয় এবং জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

আই ড্রপ ব্যবহারে যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

চোখের সমস্যায় অনেকেই নিজের মতো করে আই ড্রপ ব্যবহার করেন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি ভুল বিশেষভাবে এড়িয়ে চলা জরুরি।

পুরনো প্রেসক্রিপশন ব্যবহার: ছয় মাস বা এক বছর আগে চিকিৎসকের দেওয়া আই ড্রপ নতুন করে চোখ লাল হলেই ব্যবহার করা ঠিক নয়। আগের সমস্যার সঙ্গে বর্তমান সমস্যার কারণের মিল নাও থাকতে পারে।

অন্যের আই ড্রপ ব্যবহার: পরিবারের কোনো সদস্যের চোখের সমস্যায় যে ড্রপ কাজ করেছে, সেটি নিজের চোখেও ব্যবহার করা বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ, চোখের সমস্যার ধরন ও চিকিৎসা ব্যক্তি অনুযায়ী ভিন্ন হয়।

সমস্যার কারণ না জেনে ড্রপ ব্যবহার: চোখ লাল হওয়ার পেছনে অ্যালার্জি, শুষ্কতা কিংবা সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সব সমস্যার চিকিৎসা একই ধরনের আই ড্রপ দিয়ে সম্ভব নয়।

চোখ ভালো রাখতে যা করবেন

চোখে শুষ্কতা বা জ্বালাপোড়া দেখা দিলেই ওষুধ ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। কিছু সাধারণ অভ্যাস পরিবর্তন করেও এ ধরনের সমস্যা কমানো সম্ভব।

  • ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলুন: প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকান।
  • নিয়মিত চোখের পলক ফেলুন: দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে স্বাভাবিকের তুলনায় পলক ফেলার প্রবণতা কমে যায়। সচেতনভাবে চোখের পলক ফেললে শুষ্কতা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
  • চোখ কচলানো থেকে বিরত থাকুন: চোখে হাত দেওয়ার আগে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন। অপরিষ্কার হাতে চোখ স্পর্শ করলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
  • প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: চোখের শুষ্কতা কমাতে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে কৃত্রিম অশ্রু বা লুব্রিকেটিং আই ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে গ্লকোমা কিংবা অন্য কোনো চোখের রোগের চিকিৎসায় চক্ষু বিশেষজ্ঞের দেওয়া ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ করা উচিত নয়। চোখে বারবার লাল ভাব, ব্যথা, ঝাপসা দেখা কিংবা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চোখের সামান্য সমস্যাকে অবহেলা করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আই ড্রপ ব্যবহার করাও বিপজ্জনক হতে পারে। তাই চোখের সুস্থতা বজায় রাখতে প্রয়োজন সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসা।

সূত্র: আনন্দবাজার

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।