![]()
শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হককে যথাযথভাবে স্মরণ ও মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার। তিনি বলেছেন, শেরেবাংলা শুধু বাংলাদেশের নন, পুরো বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁকে অস্বীকার করার অর্থ নিজেদের ইতিহাসকেই অস্বীকার করা।
শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে বরিশাল বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাহিত্য সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক জোট, বরিশাল এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
আবদুল হাই শিকদার বলেন, শেরেবাংলা অবিভক্ত বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলার আত্মার অধীশ্বর। বাংলার মাটি ও মানুষ তাঁকে ভালোবেসেছে। বাঙালি মুসলমানের শিক্ষা, সামাজিক অগ্রগতি ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান অপরিসীম।
শেরেবাংলার শিক্ষাবিষয়ক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় মুসলমান শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হতেন। পরীক্ষার খাতায় নাম লেখার কারণে পরীক্ষার্থীর পরিচয় প্রকাশ পেত এবং অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের অবমূল্যায়ন করা হতো। এ সমস্যা দূর করতে পরীক্ষার খাতায় নামের পরিবর্তে রোল নম্বর ব্যবহারের পদ্ধতি চালুতে উদ্যোগী হন শেরেবাংলা। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পরিচয় গোপন রেখে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, শেরেবাংলা ছিলেন মধ্যবিত্ত শ্রেণির শিক্ষার পথপ্রদর্শক এবং কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম অগ্রদূত। মহাজনদের চক্রবৃদ্ধি সুদের শোষণ থেকে কৃষকদের রক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর শেরেবাংলাকে যথাযথভাবে স্মরণ না করার সমালোচনা করে আবদুল হাই শিকদার বলেন, শেরেবাংলা জাতির ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁকে উপেক্ষা করলে নিজেদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকেই ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিমুখ রাজনীতি একসময় নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের রেডিও, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে শেরেবাংলার উপস্থিতি খুবই সীমিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় জীবনে এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে যথাযথভাবে তুলে ধরতে না পারার কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন। পূর্বপুরুষদের অবদানকে সম্মান না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও আমাদের স্মরণ করবে না।
শেরেবাংলার স্মৃতি সংরক্ষণে বরিশালের চাখারে অবস্থিত শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক জাদুঘর আধুনিকায়নের দাবি জানান তিনি। জাদুঘরে তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে বিশেষ কর্নার স্থাপনের পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ে শেরেবাংলার অবদান ও সংগ্রামের ইতিহাস আরও গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশির দশকের কবি সিকানদার কবীর, লেখক ও গবেষক বেগম ফয়জুন নাহার শেলী এবং শেকড় সাহিত্য সংসদের সভাপতি কবি নয়ন আহমেদ।
আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন শেকড় সাহিত্য সংসদের সহসভাপতি কবি আল হাফিজ এবং কবি ও সাংবাদিক আরিফ আহমেদ মুন্না। এ সময় স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন দৈনিক যুগান্তরের ‘সকালবেলার পাখি’ পাতার বিভাগীয় সম্পাদক রফিক লিটন।
জাতীয় কবিতা পরিষদ বরিশালের সভাপতি কবি মুস্তফা হাবিবের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক কবি মাহবুর রহমান এবং বর্ণ একাডেমির পরিচালক মৌমিতা বিনতে জামান।
সম্মেলনে নিবন্ধিত কবিদের সম্মাননা দেওয়া হয়। এ ছাড়া সরকারি গৌরনদী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মোসলেম উদ্দিন শিকদারকে শেরেবাংলা স্মৃতিপদক প্রদান করা হয়।
এর আগে সকালে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।
প্রথম অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, অমৃতলাল দে মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মাহবুবুল হক, লেখক ও গবেষক বেগম ফয়জুন নাহার শেলী, বরিশাল মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আহমেদ পান্না এবং বরিশাল মহানগর জাসাসের আহ্বায়ক মীর আদনান আহমেদ তুহিন।
প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক জোট, বরিশালের আহ্বায়ক এসএম সাব্বির নেওয়াজ সাগর।
