![]()
শীত আসতে না আসতেই বাড়তে শুরু করেছে বায়ুদূষণ। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ক্রমেই অবনতি হচ্ছে বায়ুর মান। বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর বাতাসে সূক্ষ্ম দূষিত কণার পরিমাণ বাড়ায় তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি।
বাতাসে থাকা অতিক্ষুদ্র ধূলিকণা পিএম ২.৫ শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। দীর্ঘ সময় এসব কণার সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসতন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ পরিস্থিতিতে বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এন৯৫, কেএন৯৫ নাকি এফএফপি২—বায়ুদূষণ থেকে সুরক্ষায় কোন মাস্ক বেশি কার্যকর, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে।
বায়ুদূষণ থেকে সুরক্ষায় কোন মাস্ক ভালো?
সব ধরনের মাস্ক বাতাসে থাকা অতিক্ষুদ্র দূষিত কণা আটকে রাখতে পারে না। সাধারণ কাপড়ের মাস্ক কিংবা ঢিলেঢালা সার্জিক্যাল মাস্ক এসব কণার বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে কম সুরক্ষা দেয়।
অন্যদিকে, এন৯৫, কেএন৯৫ ও এফএফপি২-এর মতো মানসম্মত রেসপিরেটর মাস্ক সূক্ষ্ম কণা ছেঁকে আটকে রাখার জন্য তৈরি।
নির্দিষ্ট পরীক্ষার মান অনুযায়ী, এন৯৫ ও কেএন৯৫ মাস্ক বাতাসের অন্তত ৯৫ শতাংশ এবং এফএফপি২ মাস্ক অন্তত ৯৪ শতাংশ পরীক্ষিত কণা আটকে রাখতে সক্ষম। তবে বাস্তবে মাস্কের কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে সেটি মুখের সঙ্গে কতটা ভালোভাবে লেগে আছে তার ওপর।
মাস্ক কেনার ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের পরিচয়, মানের সনদ এবং বিক্রেতার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। শুধু দাম বা বাহ্যিক আকর্ষণ দেখে মাস্ক কেনা উচিত নয়।
মাস্কের ফিটিং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উচ্চমানের মাস্ক ব্যবহার করলেও সেটি মুখের সঙ্গে ঠিকমতো না বসলে প্রত্যাশিত সুরক্ষা পাওয়া যায় না। মাস্ক দিয়ে নাক, মুখ ও থুতনি পুরোপুরি ঢেকে রাখতে হবে। নাক কিংবা গালের পাশে ফাঁকা জায়গা থাকলে সেখান দিয়ে দূষিত বাতাস প্রবেশ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাস্কের ফিল্টারিং ক্ষমতার পাশাপাশি এর ফিটিংও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই নাকের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য ক্লিপ এবং মুখে শক্তভাবে আটকে রাখার উপযোগী ফিতা রয়েছে—এমন মাস্ক বেছে নেওয়া ভালো।
এ ছাড়া মুখের যে অংশে মাস্কের সিল তৈরি হয়, সেখানে দাড়ি থাকলে মাস্কের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
হেড স্ট্র্যাপ নাকি ইয়ার লুপ—কোনটি ভালো?
দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার প্রয়োজন হলে হেড স্ট্র্যাপযুক্ত মাস্ক তুলনামূলক ভালোভাবে মুখে আটকে থাকতে পারে। এ ধরনের মাস্ক মাথার পেছনে আটকে রাখা যায় বলে মুখের সঙ্গে ভালো সিল তৈরি করা সহজ হয়।
অন্যদিকে, কানের সঙ্গে লাগানো ফিতা বা ইয়ার লুপযুক্ত মাস্কে মুখের দুই পাশে ফাঁকা জায়গা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত মাস্কের নকশার পাশাপাশি ব্যক্তির মুখের গড়ন অনুযায়ী সেটি কতটা ভালোভাবে বসছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কখন মাস্ক পরিবর্তন করবেন?
একবার ব্যবহারযোগ্য রেসপিরেটর মাস্ক নোংরা, ভেজা কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পরিবর্তন করা উচিত। মাস্ক পরে শ্বাস নিতে অসুবিধা হলেও সেটি বদলে নতুন মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা ছাড়া ডিসপোজেবল মাস্ক ধোয়া বা বারবার ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে মাস্কের ফিল্টারিং ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের সতর্কতা
অ্যাজমা, সিওপিডি কিংবা অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় আঁটসাঁট রেসপিরেটর মাস্ক ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কারণ, এ ধরনের মাস্ক ব্যবহারে কারও কারও অস্বস্তি হতে পারে। ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী কোন ধরনের মাস্ক উপযোগী, তা চিকিৎসক নির্ধারণ করতে পারবেন।
মাস্ক ছাড়াও যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
বায়ুদূষণ থেকে সুরক্ষায় শুধু মাস্ক ব্যবহার করলেই হবে না। পাশাপাশি বাতাসের মান সূচক বা একিউআই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে অপ্রয়োজনে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষ করে খোলা জায়গায় ভারী ব্যায়াম না করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। ঘরের ভেতরের বাতাসের মান ভালো রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত এয়ার ফিল্টার ব্যবহার করা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, বায়ুদূষণ থেকে বাঁচতে বাইরে যাওয়া কমানোই সবচেয়ে কার্যকর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। তবে প্রয়োজনে বাইরে বের হলে মুখের সঙ্গে ভালোভাবে এঁটে থাকে—এমন মানসম্মত এন৯৫, কেএন৯৫ কিংবা এফএফপি২ রেসপিরেটর ব্যবহার করা যেতে পারে।
মনে রাখতে হবে, কোনো মাস্কই বায়ুদূষণের সব ধরনের ক্ষতিকর উপাদান থেকে শতভাগ সুরক্ষা দিতে পারে না।
সূত্র: নিউজ ১৮
