![]()
যশোরের মনিরামপুরের মুক্তেশ্বরী নদী থেকে বস্তাবন্দি এক ঘের ব্যবসায়ীর চাঞ্চল্যকর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য উদ্ঘাটনে বড় সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। গত ৭ নভেম্বর শনিবার সকালে উপজেলার মশিয়াহাটীর হেলারঘাট এলাকা থেকে রঞ্জন মণ্ডল (৬০) নামের ওই ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পল্লিচিকিৎসক মিঠুন ধর এবং তাঁকে ভারতে পালাতে সহায়তাকারী আব্দুল হান্নান গাজীকে সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
- মরদেহ উদ্ধার: মনিরামপুরের মুক্তেশ্বরী নদী থেকে ঘের ব্যবসায়ী রঞ্জন মণ্ডলের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
- 🔍 সিসিটিভি ফুটেজ সূত্র: স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মৃত্যুর আগে নিহত ব্যবসায়ীকে পল্লিচিকিৎসক মিঠুন ধরের চেম্বারে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
- 🏃♂️ সীমান্তে আটক: ভারতে পালানোর চেষ্টার সময় সাতক্ষীরার কলারোয়ার ভাদালিয়া সীমান্ত থেকে মিঠুন ধর ও সহায়তাকারী আব্দুল হান্নান গাজীকে আটক করা হয়।
- ⚖️ রিমান্ড আবেদন: মূল রহস্য উন্মোচনে গ্রেপ্তার মিঠুন ধরকে আদালতে সোপর্দ করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।
সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় রহস্য উদ্ঘাটন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় একটি বিশেষ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের শুরুতে নিহতের শেষ অবস্থান শনাক্ত করতে গিয়ে স্থানীয় বাজারের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, মৃত্যুর পূর্বে রঞ্জন মণ্ডল পল্লিচিকিৎসক মিঠুন ধরের চেম্বারে গিয়েছিলেন এবং এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে অভিযুক্ত মিঠুন ধরের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া এবং চেম্বারে তাঁর অনুপস্থিতি তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে যে অভিযুক্তরা সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ভাদালিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
সীমান্তে অভিযান ও রিমান্ড আবেদন
খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত অভিযানে পল্লিচিকিৎসক মিঠুন ধর ও তাঁকে সহায়তাকারী আব্দুল হান্নান গাজীকে আটক করা হয়। নিহত রঞ্জন মণ্ডল ও মিঠুন ধরের মধ্যে পূর্বপরিচিতি ও ঘনিষ্ঠতা ছিল। এই সম্পর্কের আড়ালে আর্থিক লেনদেন, বিরোধ কিংবা অন্য কোনো স্বার্থের দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মিঠুন ধরকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা, মরদেহ নদীতে ফেলার প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন তদন্তকারীরা।
যশোরের মনিরামপুর হত্যাকাণ্ড তথ্যসংক্ষেপ
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ ও মূল তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার স্থান ও তারিখ | মুক্তেশ্বরী নদী, মশিয়াহাটী, মনিরামপুর, যশোর (৭ নভেম্বর ২০২৬) |
| নিহত ব্যক্তি | রঞ্জন মণ্ডল (৬০), ঘের ব্যবসায়ী, কালিচরণপুর, কেশবপুর |
| গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিগণ | পল্লিচিকিৎসক মিঠুন ধর ও সহায়তাকারী আব্দুল হান্নান গাজী |
| গ্রেপ্তারের স্থান ও আইনি পদক্ষেপ | কলারোয়া সীমান্ত, সাতক্ষীরা; ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুরের অপেক্ষা |
