![]()
ভেনিজুয়েলায় জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্প: কারাকাস ও লা গুয়াইরায় ভবন ধসে অন্তত ৩২ জনের প্রাণহানি
ভেনিজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত লা গুয়াইরা প্রদেশ। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, লা গুয়াইরায় ডজন ডজন ভবন ধসে পড়েছে।
১৯০০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী আঘাত
মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে আঘাত হানা এই ভূমিকম্প দুটির মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭.২ এবং ৭.৫। এর মধ্যে দ্বিতীয় আঘাতটি ছিল ১৯০০ সালের পর ভেনিজুয়েলার ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। দিনটি জাতীয় ছুটির দিন হওয়ায় সেসময় বেশিরভাগ মানুষ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। রাজধানী কারাকাসে উদ্ধারকর্মীরা বর্তমানে ধ্বংসস্তূপের নিচে তল্লাশি চালাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আটকে পড়া মানুষের বাঁচার আকুতি শোনা যাচ্ছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) আশঙ্কা করছে যে এই বিপর্যয়ে নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অগভীর কেন্দ্র ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম আতঙ্ক
বিবিসির সিনিয়র ক্লাইমেট ও সায়েন্স রিপোর্টার এসম স্ট্যালার্ড জানিয়েছেন, দুটি ভূমিকম্পের কেন্দ্রই ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিলোমিটারেরও কম গভীরে। সাধারণত ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূপৃষ্ঠের যত কাছাকাছি হয়, তার ক্ষয়ক্ষতি ও কম্পনের তীব্রতা তত বেশি হয়।
এদিকে, ভেনিজুয়েলার দুর্বল বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কারণে উদ্ধারকাজ ও যোগাযোগ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিবিসি মুন্ডোর সাংবাদিক হোর্হে পেরেজ জানিয়েছেন, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ভুক্তভোগী মানুষ সঠিক তথ্য পাচ্ছেন না। যারা বিদেশে আছেন, তারা বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় নিজেদের প্রিয়জনদের খোঁজ নিতে না পেরে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। কারাকাসের বাসিন্দারা ভয় ও আতঙ্কে বিনিদ্র রাত পার করছেন।
