![]()
মায়ামি স্টেডিয়াম: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের নিজেদের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে ব্রাজিল। এই দাপুটে জয়ের ফলে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২-এ পা রাখল সেলেসাওরা। ম্যাচে জোড়া গোল করে নায়ক বনে গেছেন ভিনিসিউস জুনিয়র, আর দীর্ঘ ১০০০ দিন পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফিরে আলো কেড়েছেন সুপারস্টার নেইমার।
ম্যাচের হাইলাইটস: ভিনিসিউস ম্যাজিক ও কুনিয়ার গোল
মায়ামির মাঠে শুরু থেকেই স্কটল্যান্ডকে চেপে ধরে ব্রাজিল। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের আক্রমণভাগের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয় স্কটিশ ডিফেন্ডারদের।
-
৭ মিনিট (প্রথম গোল): স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্কট ম্যাককেনার একটি দুর্বল ব্যাকপাস চমৎকারভাবে কেড়ে নেন ভিনিসিউস জুনিয়র। এরপর স্কটিশ গোলরক্ষককে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
-
২২ মিনিট (বাতিল গোল): ভিনিসিউস আবারও বল জালে পাঠিয়ে উল্লাসে মেতেছিলেন। তবে বিল্ড-আপের সময় জ্যাক হেনরিকে ফাউল করার কারণে ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির সাহায্যে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।
-
৪৫+৩ মিনিট (দ্বিতীয় গোল): প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ব্রুনো গিমারায়েসের নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ভিনিসিউস। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় ব্রাজিল।
-
৬০ মিনিট (তৃতীয় গোল): ম্যাচের বয়স যখন এক ঘণ্টা, তখন স্কটল্যান্ডের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন মাথেউস কুনিয়া। এবারও অ্যাসিস্টের ভূমিকায় ছিলেন সেই ব্রুনো গিমারায়েস।
১,০০০ দিন পর নেইমারের আবেগঘন প্রত্যাবর্তন
ম্যাচের ৬০ মিনিট পার হওয়ার পর পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে একটাই আওয়াজ ছিল—নেইমার! অবশেষে ম্যাচের ৭৫ মিনিটে মাথেউস কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। ইনজুরির দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কাটিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১,০০০ দিন পর ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে মাঠে ফিরলেন এই পোস্টার বয়। তার মাঠে নামা সেলেসাও শিবিরে বাড়তি উদ্দীপনা জোগাবে তা বলাই বাহুল্য।
গ্রুপ ‘সি’ এর সমীকরণ ও পরবর্তী রাউন্ড
এই জয়ের পর ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করল ব্রাজিল। নকআউট পর্বের (রাউন্ড অব ৩২) ম্যাচে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে জাপান।
গ্রুপের অন্য ম্যাচে হাইতিকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে পরের রাউন্ডে উঠেছে মরক্কো। অন্যদিকে, ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে থাকা স্কটল্যান্ডকে এখন তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য গ্রুপগুলোর ফলের দিকে; সেরা চার তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের একটি হয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়ার শেষ সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।
