![]()
বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণায়নের মহাদেশ এখন ইউরোপ: তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন
নিউইয়র্ক টাইমসের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপ আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণায়নের মহাদেশে পরিণত হয়েছে। আধুনিক ডেটা থেকে দেখা যায়, ১৯৮০-এর দশক থেকে এই অঞ্চলে তাপমাত্রা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ দ্রুতগতিতে বাড়ছে। এই দ্রুত পরিবর্তনের কারণে ফ্রান্স, স্পেন এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো গ্রীষ্মের নজিরবিহীন দাবদাহের সাথে লড়াই করতে বাধ্য হচ্ছে।
ভৌগোলিক কারণ ও রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস’ সম্প্রতি জানিয়েছে, অতীতের সব তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলো। এই চরম আবহাওয়ার পেছনে মানুষের ক্রিয়াকলাপ এবং কিছু অনন্য ভৌগোলিক কারণ দায়ী। সমুদ্রের তুলনায় স্থলভাগ বেশি থাকায় ইউরোপ তুলনামূলক দ্রুত তাপ শোষণ করে। তাছাড়া, আর্কটিকের বরফ দ্রুত গলে যাওয়ায় সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও কমে গেছে মহাদেশটির। অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন যুক্তরাজ্যে শিল্প দূষণ কমে বাতাস পরিষ্কার হওয়ায় সরাসরি সূর্যের আলো মাটিতে পড়ছে, যা আঞ্চলিক জলবায়ুর পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
ফ্রান্সে রেড অ্যালার্ট জারি
এই ত্বরান্বিত সংকটের পরিণতি ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। চলতি সপ্তাহে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় ফ্রান্সে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করতে বাধ্য হয়েছে। গণপরিবহন কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের হাইড্রেটেড থাকার পরামর্শ দিচ্ছে, অন্যদিকে ছোট শিশুদের সুরক্ষায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তীব্র গরম থেকে বাঁচতে স্থানীয় নদীতে নামতে গিয়ে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক ডুবে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
সাংবাদিক ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, বৈশ্বিকভাবে জরুরি ভিত্তিতে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো না গেলে, ধ্বংসাত্মক এবং চরম আবহাওয়ার এই ঘটনাগুলো ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন এবং ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
