![]()
যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মহাগুরুত্বপূর্ণ ‘রাউন্ড অব ৩২’ (নকআউট) ম্যাচে ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ১৬ বা দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) কানসাস সিটির ঐতিহ্যবাহী অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে পুরো সময় জুড়েই আধিপত্য দেখিয়েছে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা। এই হারের মাধ্যমে ব্ল্যাক স্টার খ্যাত ঘানার বিশ্বকাপ যাত্রা এখানেই থমকে গেল।
ম্যাচের শুরুতেই আরিয়াসের ম্যাজিক
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নেয় কলম্বিয়া। আক্রমণাত্মক ফুটবলের ফল পেতেও তাদের বেশি সময় লাগেনি। ম্যাচের ঠিক ১৪ মিনিটে কলম্বিয়ার জয়ের একমাত্র এবং নির্ধারক গোলটি করেন মিডফিল্ডার জন আরিয়াস (Jhon Arias)।
অবশ্য এই গোলের পেছনে বড় অবদান ছিল লুইস সুয়ারেজের। ম্যাচের শুরুর দিকেই দলের তারকা ফরোয়ার্ড জন কর্দোবা চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন সুয়ারেজ। মাঠে নেমেই চমৎকার এক ক্রস বাড়ান তিনি, আর তা থেকেই নিখুঁত ট্যাপ-ইনে বল জালে জড়ান আরিয়াস। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় কলম্বিয়া।
লুইস দিয়াজের বাতিল হওয়া গোল
১-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করার পর, দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে কলম্বিয়া। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে লিভারপুল তারকা লুইস দিয়াজ ঘানার জালে বল পাঠালে কলম্বিয়ান শিবিরে উল্লাস বয়ে যায়। তবে ভিএআর (VAR) চেকের পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। ফলে ব্যবধান দ্বিগুণ করা সম্ভব হয়নি কলম্বিয়ার।
ঘানার লড়াই এবং গোলরক্ষকের বীরত্ব
ম্যাচে টিকে থাকতে ঘানা আপ্রাণ চেষ্টা করলেও কলম্বিয়ার রক্ষণভাগের সামনে তাদের আক্রমণগুলো বারবার খেই হারিয়ে ফেলে। পুরো ম্যাচে কলম্বিয়ার গোলপোস্টে একটিও অন-টার্গেট শট (শট অন টার্গেট) নিতে পারেনি ঘানার ফরোয়ার্ডরা।
তবে ব্যবধান ১-০ এর বেশি বাড়তে দেননি ঘানার গোলরক্ষক লরেন্স আতি-জিগি (Lawrence Ati Zigi)। পুরো ম্যাচ জুড়ে দুর্দান্ত খেলে কলম্বিয়ার অন্তত ৭টি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নসাৎ করে দেন তিনি। মূলত তার এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সেরই কারণে বড় পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা পায় ঘানা।
সামনে এখন সুইজারল্যান্ড
এই নাটকীয় জয়ের পর আগামী মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভ্যাঙ্কুভারে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে (রাউন্ড অব ১৬) ইউরোপের শক্তিশালী দল সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে কলম্বিয়া। অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে নকআউটে এলেও শেষ রক্ষা হলো না ঘানার; অশ্রুসিক্ত চোখে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো আফ্রিকান এই দলটিকে।
