![]()
মোঃ ফজলুল করিম সেখ
বাংলাদেশে টেকসই রাজনৈতিক পরিবর্তন কিংবা সফল কোনো বৃহৎ সামাজিক আন্দোলনের প্রধান শক্তি হলো যুবসমাজ। তবে শুধু রাজনৈতিক স্লোগান, আদর্শ বা আবেগের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদে কোনো পরিবর্তনকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। সেই পরিবর্তন তখনই স্থায়ী ও কার্যকর হয়, যখন তরুণ প্রজন্মের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
যুবসমাজ তখনই একটি দেশের পরিবর্তনের চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়, যখন তাদের আয়, কর্মসংস্থান, দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকে। বিশ্বের অধিকাংশ সফল রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেখানে যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি, সামাজিক পরিবর্তন এবং সংগঠিত জনসম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বাংলাদেশেও যদি কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক কিংবা রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে হয়, তবে সর্বাগ্রে যুবসমাজকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য প্রয়োজন আয়মুখী প্রকল্প, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান, আধুনিক কৃষি এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগের ব্যাপক বিস্তার।
যে সামাজিক আন্দোলনের ভিত্তি হবে কর্মসংস্থান, আত্মনির্ভরতা এবং জনগণের বাস্তব জীবনমানের উন্নয়ন, সেই আন্দোলনই ধীরে ধীরে জাতীয় রূপান্তরের শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। কারণ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী যুবসমাজই সচেতন, দায়িত্বশীল, সংগঠিত এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি তাই শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনে নয়, বরং কর্মসংস্থানভিত্তিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নিহিত। যুবশক্তিকে দক্ষ, উৎপাদনশীল ও আত্মনির্ভর করে গড়ে তুলতে পারলেই একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও উন্নত বাংলাদেশ নির্মাণের পথ সুগম হবে।
[বি.দ্র. : এটি কারো প্রতি চাপিয়ে দেওয়ার জন্য নয়। প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব মতামত রয়েছে। লেখকের নিজস্ব মতের পরিপ্রেক্ষিতে লেখা। ]
