![]()
সাভারের আশুলিয়ায় ব্রাজিল ও জাপানের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচ নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে নাহিদ হাসান (১৫) নামে এক আর্জেন্টিনা সমর্থক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে বালুচাপা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় চারজন ব্রাজিল সমর্থকের বিরুদ্ধে নিহতের পরিবার আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
ইতোমধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ‘হামজা’ নামে এক অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন নিহতের স্বজনরা। এর আগে, গত ২৯ জুন (সোমবার) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে আশুলিয়ার সাধুপাড়া এলাকার একটি গরুর হাটের বালুচরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত নাহিদ হাসান লালমনিরহাটের বড়বাড়ী-পঞ্চগ্রাম এলাকার মোস্তাক মিয়ার ছেলে। তিনি বাবার সাথে আশুলিয়ার সাধুপাড়ায় বেড়াতে এসেছিলেন। তার বাবা পেশায় একজন কসাই।
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও মরদেহ গুমের চেষ্টা
নিহতের পরিবারের দাবি, ব্রাজিল ও জাপানের খেলা চলাকালীন ফুটবল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নাহিদের সাথে হামজা, রাকিব, মেহেদী ও সিয়াম নামের চার ব্রাজিল সমর্থকের কথা-কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে তারা পরিকল্পিতভাবে নাহিদকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করার পর মরদেহটি স্থানীয় বালুচরে বালুর নিচে চাপা দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
ছেলের বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা মোস্তাক মিয়া। তিনি বলেন, “আমার ছেলেকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ওরা পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে। আমি আমার সন্তান হত্যার সর্বোচ্চ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
অভিযুক্তের ধোঁয়াশা ও পুলিশের অভিযান
নিহতের চাচা ওমর ফারুক জানান, “আটক হামজা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও নিজে সরাসরি আঘাত করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তার দাবি— রাকিব, মেহেদী এবং সিয়াম মিলে নাহিদকে হত্যা করেছে। পুলিশ রাত থেকেই লাশ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু হামজা একেক সময় একেক জায়গার কথা বলে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।”
এই বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সেই অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আটককৃত যুবকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহটি উদ্ধারের জন্য পুলিশ কাজ করছে। লাশ উদ্ধার সম্পন্ন হলে এবং তদন্ত শেষে ঘটনার মূল রহস্য ও বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে।”
