![]()
রাজধানীর অভিজাত এলাকা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত স্বামীকে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর চতুর্থ স্ত্রীর বিরুদ্ধে। আজ শনিবার (৪ জুলাই) সকালে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ৬ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রীকে ইতিমধ্যেই হেফাজতে নিয়েছে ভাটারা থানা পুলিশ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও কারণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি সম্প্রতি তাঁর পঞ্চম বিয়ে সম্পন্ন করেন। এই খবরটি জানার পর থেকেই তাঁর চতুর্থ স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কে চরম অশান্তি, বিরোধ ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রায়শই তাদের মধ্যে এই নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা ও কলহ লেগেই থাকত।
গভীর রাতে নৃশংস হামলা
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার রাতে তাঁরা যথারীতি একই বাসায় ঘুমাতে যান। কিন্তু গভীর রাতে স্বামী যখন গভীর ঘুমে মগ্ন ছিলেন, তখন পূর্বপরিকল্পিতভাবে স্ত্রী ঘরে থাকা একটি অত্যন্ত ধারালো দা নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হন।
ক্ষোভে উন্মত্ত স্ত্রী ঘুমন্ত স্বামীর ঘাড়ে পরপর তিনটি কোপ বসিয়ে দেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গেলে স্বামীর হাতেও আরও বেশ কয়েকটি কোপ লাগে। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণে এবং আঘাতের তীব্রতায় বিছানাতেই ঘটনাস্থলে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
পুলিশি অ্যাকশন ও বর্তমান পরিস্থিতি
শনিবার সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ভাটারা থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ রক্তপ্লুত বিছানা থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
ভাটারা থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পারিবারিক কলহ ও স্বামীর একাধিক বিয়ের ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটককৃত স্ত্রীকে আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় ভাটারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
