![]()
ইন্দোনেশিয়ায় যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিহত অন্তত ৫, নিখোঁজ বহু
ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপ জাভার উপকূলে ২৭১ জন আরোহী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার রোমহর্ষক এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। উদ্ধারকারী দল এবং পাশ দিয়ে যাওয়া অন্যান্য জাহাজের সহায়তায় জ্বলন্ত ফেরিটি থেকে শত শত যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
‘মুতিয়ারা সেন্টোসা ২’ (Mutiara Sentosa 2) নামের এই ফেরিটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসারে যাচ্ছিল। এতে ছিলেন:
- 👥 আরোহী: ২৩২ জন যাত্রী এবং ৩৯ জন ক্রু সদস্য।
- 🚗 যানবাহন: ১৮১টি গাড়ি (যার বেশিরভাগই ট্রাক) এবং একটি এক্সকাভেটর।
- ⏱️ সময় ও স্থান: রবিবার সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে সুমেনেপ রিজেন্সির সমুদ্রসীমায় এই আগুন লাগে।
যেভাবে আগুনের সূত্রপাত ও আতঙ্ক
আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও তদন্তাধীন থাকলেও বেঁচে ফেরা যাত্রী আহমাদ আব্দুল করিমের বর্ণনায় ভয়াবহতার চিত্র উঠে এসেছে। তিনি জানান, “নিচের ডেক থেকে একজন এসে আমাদের আগুন লাগার কথা জানায়। নিচে গিয়ে দেখি ইতোমধ্যেই দুটি গাড়িতে আগুন জ্বলছে। বাতাসের কারণে আগুন অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ৩০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে সবাইকে ফেরির সামনের অংশে (Bow) চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং ন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সির (Basarnas) প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, ফেরির একপাশ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে উড়ছে। আতঙ্কিত যাত্রীরা লাইফ জ্যাকেট পরে ডেকে এবং ওপরের অংশে জড়ো হয়ে উদ্ধারের অপেক্ষায় আছেন। কেউ কেউ জীবন বাঁচাতে সরাসরি সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ফেরিটির অপারেটর পিটি আতোসিম লাম্পুং পেলায়রান ঘটনাটি জানার কিছুক্ষণ পরই ফেরির সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
একনজরে: ‘মুতিয়ারা সেন্টোসা ২’ ফেরির বিবরণ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নির্মাণকাল ও স্থান | ১৯৯২ সাল, জাপান (সাবেক নাম: ফেরি ওসাকা) |
| আকার | দৈর্ঘ্য ১৬০ মিটার (৫২৫ ফুট) এবং প্রস্থ ২৫ মিটার (৮২ ফুট) |
| বর্তমান রুট | সুরাবায়া থেকে মাকাসার (প্রায় ৪০ ঘণ্টার সমুদ্রপথ) |
| হালনাগাদ উদ্ধার পরিস্থিতি | ২২৭ জন উদ্ধার, ৫ জন নিহত, ৩৯ জন নিখোঁজ |
উদ্ধার অভিযান ও চ্যালেঞ্জ
সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয় ফেরিটি বুরুয়ান সাপুদি দ্বীপের প্রায় ১৯ নটিক্যাল মাইল উত্তরে রয়েছে। কাছাকাছি থাকা ‘মেরাতুস প্রজেক্ট ৩’ নামের একটি কার্গো জাহাজ প্রথমে সাড়া দিলেও সেটিতে দাহ্য পদার্থ থাকায় জ্বলন্ত ফেরির খুব কাছে যাওয়া সম্ভব হয়নি। সকাল ১০টার কিছু আগে একটি টাগবোট এবং অন্য একটি জাহাজ উদ্ধারকাজ শুরু করে। সুরাবায়া থেকে একটি উদ্ধারকারী নৌযান ঘটনাস্থলে রওনা হলেও উত্তাল সাগর ও উঁচু ঢেউয়ের কারণে তা ফিরে আসতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনী একটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে।
রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২২৭ জন আরোহীকে জীবিত এবং ৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিখোঁজ অন্তত ৩৯ জনের সন্ধানে এখনও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় ফেরি যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কিন্তু দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনের প্রয়োগ না থাকায় দেশটিতে প্রায়ই এমন মর্মান্তিক নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
