![]()
নিউজ প্রোভাইডার
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাভাবিক বক্তব্য বা মতামত প্রচারে কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁর কোনো ধরনের ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ (Hate Speech) প্রচার করা যাবে না।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ব্যতীত স্বাভাবিক বাকস্বাধীনতায় বাধা নেই’
সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করে বলেন, “আদালতের আদেশে বলা হয়েছিল, তিনি যেন বিদ্বেষমূলক কোনো কথা না বলেন। সেখানে তাঁকে বক্তব্য দিতে পুরোপুরি বারণ করা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কথা। সুতরাং তিনি যদি সাধারণ বা স্বাভাবিক কথাবার্তা বলেন, তবে তার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।”
ভারতে অবস্থানরত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা ও সাজা কার্যকরের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী তাঁর রায় কার্যকর করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারা উদ্ধৃত করে তিনি জানান, রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বাধ্যবাধকতা থাকে। সেই নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় তাঁর আর আপিল করার আইনি সুযোগ নেই। এ ছাড়া বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির জামিন পাওয়ার কোনো নজির নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গুম সংক্রান্ত খসড়া আইন ও বিচারের অগ্রগতি
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে গুম সংক্রান্ত নতুন খসড়া আইনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানান, প্রস্তাবিত আইনে গুমের ঘটনাকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ: বিচ্ছিন্ন কোনো গুমের ঘটনা সাধারণ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
২. মানবতাবিরোধী অপরাধ: গুমের ঘটনা যদি পদ্ধতিগত ও ব্যাপক আকারে সংঘটিত হয়ে থাকে, তবে তা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, এ পর্যন্ত পাওয়া ৫৯০টি অভিযোগের মধ্যে ১০৯টি বাছাই করা হয়েছে, যেগুলোতে সারা দেশের চিত্র উঠে এসেছে। যাত্রাবাড়ী, উত্তরা ও নরসিংদীর মতো হটস্পটগুলোর ঘটনা একীভূত (Clubbed) করে তদন্ত করা গেলে সময় বাঁচবে বলে তিনি মনে করেন। আগামী এক বছরের মধ্যে তদন্ত ও বিচার—উভয় প্রক্রিয়াই শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে।
