![]()
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার এক প্রলয়ঙ্কারী ভূমিকম্পের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে দেশের পশ্চিমাঞ্চল। ভয়াবহ এই দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন ২০০ জনেরও বেশি মানুষ। শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী এই ভূকম্পনে গুঁড়িয়ে গেছে বহু ঘরবাড়ি ও বহুতল ভবন। ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতা জোরদারের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশজুড়ে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে কলম্বিয়ার সরকার।
বুধবার দেশটির সরকারের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এই মর্মান্তিক তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ধ্বংসযজ্ঞ ও উদ্ধার তৎপরতা
গত সোমবার সংঘটিত এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায়। ৭.৪ মাত্রার তীব্র ঝাঁকুনিতে মুহূর্তের মধ্যেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে শত শত আবাসিক ভবন ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ধসে পড়া কংক্রিটের স্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ চাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী এবং সিভিল ডিফেন্সের সম্মিলিত দল উপদ্রুত এলাকায় দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে, তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
শতাব্দীর শক্তিশালী দুর্যোগ
ভূতাত্ত্বিক তথ্যমতে, গত ১০০ বছরের মধ্যে এটিই কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প। আকস্মিক এই বিপর্যয়ে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জরুরি পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে ফাটল ধরায় উপদ্রুত এলাকায় ত্রাণ ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
সরকারি উদ্যোগ ও সহায়তার আহ্বান
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে জরুরি উপদ্রুত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের হাসপাতালগুলোতে রেড অ্যালার্ট জারি করে আহতদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে জানানো হয়েছে, দুর্যোগের এই কঠিন মুহূর্তে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। গৃহহীন ও সর্বস্ব হারানো মানুষের জন্য সাময়িক আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং জরুরি খাদ্য ও পানীয় বিতরণ শুরু হয়েছে। তিন দিনের শোক পালনের অংশ হিসেবে দেশের সমস্ত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
