![]()
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরার ম্যাজিক: এক দিনেই ৯১ শতাংশ কমল ট্রাফিক মামলা
দেশের অন্যতম লাইফলাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরা চালুর পরপরই অভাবনীয় সুফল মিলতে শুরু করেছে। উদ্বোধনের প্রথম দিনেই যেখানে অতিরিক্ত গতি ও উলটো পথে গাড়ি চালানোর দায়ে ৪৪৬টি মামলা হয়েছিল, ঠিক পরের দিনই তা নেমে এসেছে মাত্র ৪২টিতে। অর্থাৎ মাত্র এক দিনের ব্যবধানেই মহাসড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ও মামলা কমেছে প্রায় ৯১ শতাংশ।
- 📉 মামলার পরিসংখ্যান: ১৮ আগস্ট মামলা ৪৪৬টি, ১৯ আগস্ট তা কমে মাত্র ৪২টি।
- 🎥 এআই প্রযুক্তির ব্যবহার: কোনো মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধ শনাক্ত।
- 🚨 শনাক্তকৃত অপরাধ: অতিরিক্ত গতি, উলটো পথে চলা, অবৈধ পার্কিং, হেলমেটবিহীন রাইড ইত্যাদি।
- 📲 স্মার্ট সিস্টেম: আইন ভাঙলেই চালকের মোবাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাচ্ছে জরিমানার মেসেজ।
এক দিনেই পালটে গেল মহাসড়কের দৃশ্যপট
হাইওয়ে পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, এআই ক্যামেরা চালুর প্রথম দিন (১৮ আগস্ট) অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর দায়ে ৪১৭টি এবং উলটো পথে চলার দায়ে ২৯টি মামলা হয়। এর মধ্যে বেশি মামলা হয় কুমিল্লা অঞ্চলে। কিন্তু ১৯ আগস্ট চিত্রটি পুরোপুরি বদলে যায়। ওইদিন উলটো পথে গাড়ি চালানোর কোনো ঘটনাই শনাক্ত হয়নি এবং অতিরিক্ত গতির মামলা নেমে আসে মাত্র ৪২টিতে। হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, “স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা হওয়ায় মানুষের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই। অপরাধ করলেই মোবাইলে জরিমানার মেসেজ চলে যাচ্ছে। ফলে মামলা এড়ানোর কোনো রাস্তা আর খোলা নেই।”
একনজরে: হাইওয়ে পুলিশের এআই ক্যামেরা প্রকল্প
| খাত / বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| প্রকল্পের পরিধি | প্রায় ২৫০ কিলোমিটার (নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট) |
| মোট ক্যামেরা ও ব্যয় | ১৪২৭টি এআই ক্যামেরা (৪৯০টি খুঁটিতে); ব্যয় ১৪২ কোটি টাকার বেশি |
| সর্বোচ্চ গতিসীমা | ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার (অতিক্রমে ২৫০০ টাকা জরিমানা) |
| উলটো পথে চলার জরিমানা | ৩,০০০ টাকা |
চালকদের মধ্যে বেড়েছে সতর্কতা
মহাসড়কে বেপরোয়া গতি কমে যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব এ এস এম আহম্মেদ খোকন জানান, “জরিমানা ও স্বয়ংক্রিয় মামলা এড়াতে চালকদের ৮০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গাড়ি না চালানোর জন্য সমিতির পক্ষ থেকে সার্কুলার জারি করা হয়েছে।” এছাড়া ফিটনেস বা লাইসেন্স নবায়নের সময় ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অপরাধ প্রমাণের ব্যবস্থা থাকায় চালকদের মধ্যে আইন অমান্য করার প্রবণতা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।
