![]()
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ট্রাম্পের ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল করলেন মার্কিন আদালত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কর্তৃক বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা প্রদান স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। পররাষ্ট্র দপ্তরের (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এই পদক্ষেপকে তাদের এখতিয়ারবহির্ভূত এবং স্পষ্টতই বেআইনি বলে অভিহিত করেছেন বিচারক।
- ⚖️ আদালতের রায়: ট্রাম্প প্রশাসনের ৭৫ দেশের অভিবাসন ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল।
- 🇧🇩 বাংলাদেশ প্রসঙ্গ: দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ছিল বাংলাদেশও।
- 🏛️ আইনি যুক্তি: নির্দেশিকাটি ফেডারেল অভিবাসন আইন ও কনসুলার ক্ষমতার মূল বিধির পরিপন্থী।
- 👥 মামলাকারী সংস্থা: ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক, আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার ও আবেদনকারীরা।
‘স্টেট ডিপার্টমেন্টের নীতি স্পষ্টতই বেআইনি’
শুক্রবার (২১ আগস্ট) নিউ ইয়র্কের সাদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ম্যানহাটন আদালতের বিচারক জিনেট ভার্গাস এক ঐতিহাসিক রায়ে জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের এই ভিসা স্থগিতের নীতি স্পষ্টতই আইনবহির্ভূত। এটি মার্কিন ফেডারেল অভিবাসন আইনের পরিপন্থী, যা কনসুলার কর্মকর্তাদের ভিসা অনুমোদনের স্বাধীন ক্ষমতার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। বিচারক আরও উল্লেখ করেন যে, নির্দিষ্ট জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে সরাসরি অভিবাসন ভিসা স্থগিত করা মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার একচ্ছত্র লঙ্ঘন।
যেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এই সিদ্ধান্তে
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই আদেশের কারণে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দক্ষিণ এশীয় দেশ, লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে, বলকান অঞ্চলের অ্যালবেনিয়া ও বসনিয়া সহ মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ৭৫টি দেশের হাজার হাজার অভিবাসন প্রত্যাশী সরাসরি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। মার্কিন সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করার ঝুঁকি বা ‘পাবলিক চার্জ’ হতে পারে— এমন অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিষেধাজ্ঞাটি জারি করেছিল।
একনজরে: ট্রাম্পের ভিসা নীতি বনাম মার্কিন আদালতের রায়
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| আদালতের রায় | ৭৫ দেশের স্থগিতকৃত অভিবাসন ভিসা পুনরায় চালুর আদেশ |
| বিচারক ও আদালত | বিচারক জিনেট ভার্গাস, ম্যানহাটন সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট |
| প্রভাবিত প্রধান দেশসমূহ | বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, অ্যালবেনিয়া ইত্যাদি |
| ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি | সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার আশঙ্কা (Public Charge) |
ভিসা আবেদনকারীদের মাঝে স্বস্তি
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কঠোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ১ জানুয়ারি থেকে ৩৯টি দেশের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং ডিসেম্বরে ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি স্থগিতের ধারাবাহিকতায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই নীতি অভিবাসন প্রত্যাশীদের আইনি অধিকার হরণ করেছিল। আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ের ফলে বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত ৭৫টি দেশের হাজার হাজার ভিসা আবেদনকারী ও মার্কিন স্বজনদের মাঝে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে এসেছে।
