Touch Bangladesh
ঢাকাশনিবার , ২৯ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

মানবতার গল্প নিয়ে আসছে নতুন ধারার সামাজিক নাটক ‘তাবিজ’

প্রতিবেদক
Louis Daru
আগস্ট ২৯, ২০২৬ ২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রেম-বিরহ, পারিবারিক টানাপোড়েন কিংবা প্রচলিত রোমান্টিক গল্পের বাইরে মানবতা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, মাতৃত্ব, পিতৃত্ব, আত্মত্যাগ ও সামাজিক মূল্যবোধকে উপজীব্য করে নির্মিত হচ্ছে ব্যতিক্রমধর্মী সামাজিক ও মানবিক টেলিভিশন নাটক ‘তাবিজ’। সাংবাদিক, সাহিত্য গবেষক, কলামিস্ট ও লেখক জেমস আব্দুর রহিম রানা-এর রচনায় নির্মিতব্য নাটকটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে এক অসহায় মুসলিম শিশুকে ঘিরে, যে এক ঝড়ের রাতে নদীর ধারে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি খ্রিস্টান পরিবারের আশ্রয় পায়।

নাটকের গল্পে যোসেফ গোমেজ একজন দরিদ্র ও নিঃসন্তান খ্রিস্টান কৃষক। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির রাতে নদীর ধারে শিশুর কান্না শুনতে পান তিনি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে স্ত্রী মারিয়াকে সঙ্গে নিয়ে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন। শিশুটির পরিচয় বলতে তার গলায় থাকা একটি তাবিজ এবং সেই তাবিজের সঙ্গে যুক্ত একটি নাম—‘আব্দুল্লাহ’।

অসহায় শিশুটিকে আশ্রয় দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় নতুন সংকট। একজন খ্রিস্টান পরিবারের ঘরে মুসলিম শিশুর বেড়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে গ্রামের কিছু মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও আপত্তি দেখা দেয়। বিশেষ করে জমির উদ্দিন আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে যোসেফ হয়তো শিশুটিকে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করতে পারেন। কিন্তু নাটকটি কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় না; বরং ধর্মীয় মূল্যবোধের মধ্য দিয়েই মানবতার বৃহত্তর অর্থ তুলে ধরে।

গ্রামের মসজিদের ইমাম মাওলানা করিম জমির উদ্দিনকে শিশুটির দায়িত্ব নেওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর—ঝড়ের রাতে মৃত্যুর মুখে থাকা একটি পরিত্যক্ত শিশুকে উদ্ধার করে আশ্রয় দেওয়া অপরাধ নয়; বরং একজন অসহায় প্রাণকে রক্ষা করা মানুষের দায়িত্ব। তবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব পেলেও জমির উদ্দিন শেষ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব গ্রহণে সম্মত হন না।

অন্যদিকে যোসেফের সঙ্গে আলোচনায় গির্জার ফাদার মাইকেলও ধর্মীয় শিক্ষার মানবিক দিক তুলে ধরেন। শিশুটিকে ভালোবাসা ও নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি তার নিজস্ব ধর্মীয় পরিচয় এবং ভবিষ্যতের প্রতি সম্মান দেখানোর পরামর্শ দেন তিনি। ফলে আব্দুল্লাহর লালন-পালনের মধ্য দিয়ে নাটকে একদিকে যেমন খ্রিস্টান পরিবারের মানবিকতা ফুটে ওঠে, অন্যদিকে মুসলিম শিশুটির ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতিও যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি উঠে আসে।

গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র মাওলানা করিম। তিনি ধর্মীয় পরিচয়কে বিভেদের কারণ না বানিয়ে মানবিক দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার শিক্ষা দেন। ফাদার মাইকেলের সঙ্গে তাঁর পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক সংলাপ নাটকের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিক। দুই ধর্মীয় নেতার অবস্থানের মধ্য দিয়ে নাটকে ফুটে ওঠে—ধর্ম মানুষের বিশ্বাসের বিষয় হলেও মানবতা সব মানুষের অভিন্ন দায়িত্ব।

সময়ের সঙ্গে আব্দুল্লাহ বড় হতে থাকে। তাকে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত করা হয়। মেধা, সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সে পুরো গ্রামের মানুষের ভালোবাসা অর্জন করে। একসময় সে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। জীবনের সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেও সে ভুলে যায় না দরিদ্র কৃষক যোসেফ ও মারিয়াকে—যারা রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও তাকে সন্তানের মতো বুকে আগলে মানুষ করেছিলেন।

নাটকের কাহিনিতে বহু পুরোনো একটি তাবিজ হয়ে ওঠে আব্দুল্লাহর হারিয়ে যাওয়া পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। তাবিজের ভেতরের তথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে সামনে আসে তার জন্মদাতা বাবা-মায়ের পরিচয়। বহু বছর ধরে সন্তান হারানোর বেদনা বয়ে চলা রহিমা ও করিম শেখ-এর সঙ্গে আব্দুল্লাহর পুনর্মিলন হয়ে ওঠে নাটকের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়।

কিন্তু জন্মদাতা বাবা-মাকে ফিরে পাওয়ার পর আব্দুল্লাহর সামনে দাঁড়ায় আরও গভীর এক প্রশ্ন—সে কার সন্তান? যে মা তাকে জন্ম দিয়েছেন, নাকি যে পরিবার তাকে জীবনের কঠিন সময়ে ভালোবাসা ও আশ্রয় দিয়ে মানুষ করেছে?

নাটকের চূড়ান্ত পর্যায়ে আব্দুল্লাহ কোনো পক্ষকে বেছে নেয় না; বরং ভালোবাসার দুই ঠিকানাকেই নিজের করে নেয়। তার উপলব্ধি—জন্মদাতা বাবা-মায়ের প্রতি যেমন তার দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি জীবনের কঠিন সময়ে তাকে আগলে রাখা যোসেফ ও মারিয়ার প্রতিও রয়েছে আজীবনের ঋণ। রক্তের সম্পর্ক যেমন অস্বীকার করা যায় না, তেমনি ভালোবাসা, ত্যাগ ও লালন-পালনের ঋণও কখনো মুছে যায় না।

গল্পের শেষভাগে আব্দুল্লাহ প্রতিষ্ঠা করে ‘মানবতার সন্তান ফাউন্ডেশন’। তার জীবনদর্শনের মধ্য দিয়ে নাটকের মূল বক্তব্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে—মানুষের পরিচয় শুধু ধর্মীয় পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মানবতা।

‘তাবিজ’ তাই শুধু একটি টেলিভিশন নাটক নয়; এটি ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক সহাবস্থান, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, মাতৃত্ব, পিতৃত্ব, আত্মত্যাগ এবং মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধের গল্প। একই সঙ্গে এটি দর্শককে মনে করিয়ে দিতে চায়—একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আগে তার ধর্ম, বর্ণ কিংবা পরিচয় নয়; তার অসহায়ত্বটিই সবচেয়ে বড় সত্য।

বাংলাদেশে সামাজিক ও মানবিক গল্পনির্ভর নাটকের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলেও নাটক, টেলিফিল্ম ও সামাজিক মূল্যবোধভিত্তিক অনুষ্ঠান সম্প্রচার হয়ে আসছে। সেই ধারায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), এনটিভি, আরটিভি, চ্যানেল আই, মাছরাঙা টেলিভিশন, মোহনা টিভিসহ দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে ‘তাবিজ’ প্রচারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। মানবিকতা, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সচেতনতার বার্তা নাটকটিকে প্রচলিত বিনোদননির্ভর গল্পের বাইরে আলাদা অবস্থান তৈরি করতে পারে বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

নাটকটির রচয়িতা জেমস আব্দুর রহিম রানা বলেন, “তাবিজ কোনো ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার গল্প নয়। এটি মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের গল্প। একজন মুসলিম শিশুকে একজন খ্রিস্টান পরিবার আশ্রয় দিয়েছে—এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমি দেখাতে চেয়েছি, ধর্মীয় পরিচয় মানুষের বিশ্বাসের অংশ হলেও মানবতা মানুষের সর্বজনীন পরিচয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সমাজে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে নানা ধরনের বিভাজন তৈরি হয়। কিন্তু একটি অসহায় শিশুর সামনে দাঁড়ালে প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত তাকে রক্ষা করা। ‘তাবিজ’ সেই মানবিক দায়িত্বের কথাই মনে করিয়ে দিতে চায়।”

নাটকটির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যশিল্পী নিলয় আলমগীর, জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি, ইসরাক পায়েল, তানিয়া বৃষ্টি, আবদুল্লাহ রানা, শেলী আহসান, রিমু রোজা খন্দকার, ফরহাদ লিমন, জাবেদ গাজী প্রমুখ। তাদের অভিনয়ের মধ্য দিয়ে গল্পের আবেগ, দ্বন্দ্ব, মানবিক সংকট এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন দর্শকের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

প্রায় দুই ঘণ্টা সময়ের এই সামাজিক ও মানবিক টেলিভিশন নাটকের মূল বিষয় মানবতা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, মাতৃত্ব, পিতৃত্ব, আত্মত্যাগ ও সামাজিক সহাবস্থান। প্রস্তাবিত সম্প্রচার ক্ষেত্র হিসেবে বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ দেশের বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের কথা বিবেচনায় রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে নাটকটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

সবশেষে ‘তাবিজ’ যেন একটি প্রশ্নই রেখে যায়—মানুষকে কি তার জন্মপরিচয় দিয়ে বিচার করা হবে, নাকি তার ভালোবাসা ও মানবিকতার মাধ্যমে?

‘তাবিজ’—একটি শিশুর পরিচয়ের গল্প, দুই পরিবারের ভালোবাসার গল্প এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের জয়গানের গল্প।

নাটকের পরিচিতি:
নাম: তাবিজ
ধরন: সামাজিক ও মানবিক টেলিভিশন নাটক
সময়কাল: প্রায় দুই ঘণ্টা।
রচয়িতা: জেমস আব্দুর রহিম রানা।
মূল বিষয়: মানবতা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, মাতৃত্ব, পিতৃত্ব, আত্মত্যাগ ও সামাজিক সহাবস্থান।
প্রস্তাবিত সম্প্রচার ক্ষেত্র: বাংলাদেশ টেলিভিশন ও দেশের বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
অভিনয়ে: নিলয় আলমগীর, জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি, ইসরাক পায়েল, তানিয়া বৃষ্টি, আবদুল্লাহ রানা, শেলী আহসান, রিমু রোজা খন্দকার, ফরহাদ লিমন, জাবেদ গাজী প্রমুখ।
মূল বার্তা: “ধর্ম মানুষের বিশ্বাসের পরিচয়; মানবতা মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।”

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।