![]()
পারমাণবিক জাহাজে উত্তর মেরু জয়: বরফের বুকে লাল-সবুজ ওড়াল রাজশাহীর স্কুলপড়ুয়া প্রত্যয়
ঘড়িতে গভীর রাত, অথচ চারদিকে ঝলমলে দিনের আলো। রাশিয়ার উত্তরের বন্দরনগরী মুরমানস্কে পা রেখেই এমন বিস্ময়ের মুখোমুখি হয়েছিল রাজশাহীর দশম শ্রেণির ছাত্র মালেকুল সালেহীন প্রত্যয়। রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা ‘রোসাটম’-এর আয়োজিত ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ কর্মসূচির মাধ্যমে একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত জাহাজে চেপে পৃথিবীর উত্তর মেরু (North Pole) ঘুরে এসেছে এই অদম্য কিশোর। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে বিশ্বের আরও ২১ দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই বিরল অভিজ্ঞতার অংশীদার হয়েছে বাংলাদেশ।
- 🧑🎓 মেরুযাত্রী: মালেকুল সালেহীন প্রত্যয়, দশম শ্রেণির ছাত্র (রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ)।
- 🚢 বাহন ও উদ্যোগ: রোসাটমের পারমাণবিক আইসব্রেকার জাহাজ (‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ কর্মসূচি)।
- ☀️ ভিন্ন পরিবেশ: ‘পোলার ডে’ বা ২৪ ঘণ্টা দিনের আলো এবং মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা।
- 🇧🇩 গর্বের মুহূর্ত: উত্তর মেরুর পুরু বরফে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রদর্শন।
সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ আর পোলার ডে’র বিস্ময়
১ আগস্ট ঢাকা থেকে মস্কো হয়ে বাবার সঙ্গে মুরমানস্কে পৌঁছায় প্রত্যয়। ৪ আগস্ট আইসব্রেকারে ওঠার পর শুরু হয় মূল রোমাঞ্চ। প্রথম দিকে সমুদ্রের ভয়ংকর দুলুনি আর সি-সিকনেসে কাবু হয়ে পড়লেও, ধীরে ধীরে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয় সে। জাহাজের দিনগুলো ছিল সম্পূর্ণ ছকে বাঁধা। সকালে শরীরচর্চা সেরে কনফারেন্স রুমে মেরিন বায়োলজি, নিউক্লিয়ার বিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে বিশেষজ্ঞদের নানা সেশন চলত।
সূর্য না ডোবার কারণে সময়ের হিসাব রাখাটা প্রথম দিকে বেশ অদ্ভুত লাগত প্রত্যয়ের কাছে। স্থানীয় সময়ের চেয়ে দুই ঘণ্টা এগিয়ে একটি সময়সূচি অনুসরণ করে রাত ১০টায় ঘুমাতে গেলেও, গভীর রাতে চারপাশ দিনের আলোর মতোই আলোকিত থাকত। এর মাঝেই একদিন দেখা মেলে বিরল পোলার বিয়ারের।
উত্তর মেরু যাত্রার টাইমলাইন
| তারিখ | ঘটনাপ্রবাহ |
|---|---|
| ১ – ৩ আগস্ট | মস্কো পৌঁছানো এবং বন্দরনগরী মুরমানস্ক পরিদর্শন। |
| ৪ আগস্ট | আইসব্রেকার জাহাজে আরোহণ এবং উত্তর মেরুর উদ্দেশে মূল যাত্রা শুরু। |
| ৭ – ৮ আগস্ট | উত্তর মেরুতে পৌঁছানো, বরফে অবতরণ ও পতাকা প্রদর্শন। ৮ তারিখ ফিরতি যাত্রা। |
| ১৩ আগস্ট | উত্তর মেরু থেকে সফলভাবে পুনরায় মুরমানস্ক বন্দরে প্রত্যাবর্তন। |
উত্তর মেরুতে লাল-সবুজ ও এক রুশ বন্ধুর গল্প
৭ আগস্ট নর্থ পোলের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর বিকেলে পুরু বরফের স্তরে নামার সুযোগ পায় প্রত্যয়। মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বরফের ওপর দাঁড়িয়ে সগর্বে সে তুলে ধরে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।
এই যাত্রায় ১২ আগস্ট ঘটে এক দারুণ চমকপ্রদ ঘটনা। জাহাজে এক রুশ বিশেষজ্ঞকে বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত টি-শার্ট পরা অবস্থায় আবিষ্কার করে সে। কথা বলে জানতে পারে, ওই বিশেষজ্ঞ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় এক বছর কাজ করেছেন। বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তা এবং গ্রামের একটি বিয়েতে যাওয়ার সুখস্মৃতি তিনি প্রত্যয়ের সঙ্গে ভাগ করে নেন। পৃথিবীর একেবারে দূর প্রান্তে দাঁড়িয়ে একজন বিদেশির গায়ে বাংলাদেশের জার্সি দেখে বুকটা গর্বে ভরে ওঠে এই বাংলাদেশি কিশোরের।
