![]()
অধ্যাপক ডক্টর. শেখ আকরাম আলী
নবাব সিরাজের চরিত্রের মতো সিরাজ বংশধরগণকে জনসাধারণ্যে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য পূর্বের সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত চিহ্নিত কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। নবাব আলিবর্দী খানের পরিবারের সময় থেকেই, নিজ সন্তান থাকার পরও পালক সন্তান রাখার প্রথা সিরাজ পরিবারে দীর্ঘ সময় ধরে প্রচলিত আছে। এই পালক সন্তানেরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এবং নিজেদের সিরাজ পরিবারের অংশ হিসেবে দাবি করে। একইভাবে দাবিদারিত্ব করে সিরাজের দু’ বোনের বংশধরেরা। আর মিরজাফর, মিরনের বংশধরদের কেউ কেউ তাদের পূর্ব পুরুষদের অপকর্মে লজ্জিত হয়ে, তাদের আসল বংশ পরিচয় থেকে সরে এসে নবাব সিরাজউদ্দৌলা বংশের অংশ কিংবা নবাবের বংশধর হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
♥ নবাব মনসুরুল মুলক মীর্জা মোহাম্মদ সিরাজউদ্দৌলা বাদশাহ কুলি খান হায়বত জঙ বাহাদুর, পিতা : হাশেম জায়েন উদ্দিন, মাতা : আমিনা বেগম,স্ত্রী : বেগম লুৎফুন্নিসা, ভাই : দুই জন (সিরাজ সহ তিন জন), বোন : দুই জন, নানা : নবাব আলিবর্দী খান।
নবাব সিরাজউদ্দৌলার জন্ম : ১৯ সেপ্টেম্বর ১৭২৭ ইং, জন্মস্থান : এই রূপসি বাংলায় (তৎকালিন দু’বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে), শাহাদাৎ : ২ জুলাই ১৭৫৭ ইং ।
সিরাজের প্রিয়তমা সহধর্মিনী বেগম লুৎফুন্নিসা ১৭৬৭ সালে কন্যা উম্মে জোহরা ওরফে কুদসিয়া বেগমকে ১৪ বছর বয়সে সিরাজের ভাই ইকরামউদ্দৌলার পুত্র মুরাদউদ্দৌলার সাথে শাদি দেন। দুই আপন ভাইয়ের ছেলে-মেয়ের নিকাহ হওয়াতে সিরাজউদ্দৌলা পরিবারের বংশের বাতি জ্বলতে থাকল, যা আজও বর্তমান ।
বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার ফ্যামিলি ট্রি :-
♥ ১ম-উম্মে জোহরা ওরফে কুদসিয়া বেগম।
(পিতা-নবাব সিরাজউদ্দৌলা, মাতা- বেগম লুৎফুন্নিসা)
স্বামী-মুরাদউদ্দৌলা (পিতা-ইকরামউদ্দৌলা, নবাব সিরাজউদ্দৌলার ভ্রাতুষ্পুত্র)
♥ ২য়- শমশের আলী খান। (স্ত্রী-সৈয়দা আলীয়াতুন্নিসা বেগম)
২য়-মমতাজ বেগম (অল্প বয়সে মৃত্যু)
২য়- ফূননা বেগম (অল্প বয়সে মৃত্যু)
♥ ৩য়- সৈয়দ লুৎফে আলী
৩য়- জায়নাল আবেদীন (নিঃসন্তান)
♥ ৪র্থ- ফাতেমা বেগম
♥ ৫ম- হাসমত আরা বেগম। (স্বামী-সৈয়দ আলী রেজা)
৫ম -লুৎফুন্নেসা বেগম (নিঃসন্তান)
♥ ৬ষ্ঠ- সৈয়দ জাকি রেজা। স্ত্রী- ইয়াকুতি বেগম।
♥ ৭ম- গোলাম মোর্তজা। স্ত্রী- নিখাত আরা।
৭ম- সৈয়দ বাবু (নিঃসন্তান)
৭ম- সৈয়দা কানজো (অল্প বয়সে মৃত্যু)
৭ম- চাঁদ বেগম (অল্প বয়সে মৃত্যু)
♥ ৮ম- প্রকৌশলী সৈয়দ গোলাম মোস্তফা ওরফে এস.জি. মোস্তাফা। সহধর্মিনী- মহীয়সী নারী সৈয়দা হোসনে আরা বেগম।
৮ম-গোলাম মুজতবা (নিঃসন্তান)
৮ম-বেবি হামিদা বানু মুন্নি (নিঃসন্তান)
♥ ৯ম- সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেব ওরফে নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলা।
♥ মহীয়সী নারী বেগম লুৎফুন্নিসা,পিতা : ইরাজ খান,মাতা : গুলশান আরা, ভাই : ইরান খান,দাদাজান : আকবর কুলি খান,স্বামী : নবাব সিরাজউদ্দৌলা, কন্যা : উম্মে জোহরা। জন্ম : ১৭৩৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, মৃত্যু : ১৭৮৬ সলের ১০ নভেম্বর।
নবাব সিরাজউদ্দৌলার সহধর্মিনী বেগম লুৎফুন্নিসা ছিলেন ইরাজ খানের কন্যা।ইরাজ খান ছিলেন আতি সম্ভ্রান্ত বংশীয়। লুৎফুন্নিসার আপন একজন ভাইও ছিলেন,নাম তার ইরান খান।ইরাজ খানের পিতা আকবর কুলিখান ভাগলপুরের শাষক ছিলেন।শাহজাদা আজমের মৃত্যুর পর তিনি বাংলায় চলে আসেন।আলিবর্দী খান বংশীয় মর্যাদার জন্য ইরাজ খানকে সম্মান দেখানএবং দরবারের উচ্চপদে নিয়োগ দেন।তিনি নিজেই ইরাজ খানের কাছে তার কন্যা লুৎফুন্নিসার জন্য সিরজদ্দৌলার সাথে শাদির প্রস্তাব দেন।
লাল সবুজের হৃদয়ের নবাব সিরজদ্দৌলার সহধর্মিনী বেগম লুৎফুন্নিসা পরিবারের বংশ সিঁড়ি :-
১ম-বদরুন্নিসা বেগম
(পিতা:- ইরান খান, ফুপু:- নবাব সিরজদ্দৌলার স্ত্রী বেগম লুৎফুন্নিসা)
স্বামী:-মুরাদউদ্দৌলা(পিতা- ইকরামউদ্দৌলা, নবাবসিরজদ্দৌলার ভ্রাতুষ্পুএ)।
২য়-উলফাতুন্নিসা বেগম।
৩য়-সৈয়দ হাদী রেজা।
৩য়-গোলাম হায়দার (নি:সন্তান)।
৩য়-নাসিমা বেগম (নি:সন্তান)।
৪র্থ-তিলাত আরা বেগম।
৫ম-শাহজাদি বেগম।
৬ষ্ঠ-রওশন আরা বেগম (স্বামী: গোলাম আব্বাস)।
৭ম-গুলশান আরা বেগম (স্বামী: ডাক্তার সৈয়দ নাসির আলী মির্জা)।
৭ম-নুরজাহান বেগম (নি:সন্তান)।
৭ম- লুৎফুন্নিসাম বেগম (নি:সন্তান)।
৮ম-সৈয়দা হোসনে আরা বেগম (স্বামী-প্রকৌশলী এস.জি. মোস্তাফা, নবাব সিরাজউদ্দৌলার ৮ম বংশধর)
৮ম-মোবারক হোসেন (নি:সন্তান)।
৯ম- সৈয়দা সাকিনা ইমু (সন্তান – ২জন)
৯ম- সৈয়দা নাজনীন মুনমুন (সন্তান- ৩জন)
৯ম- সৈয়দ মুহাম্মদ আলী রেজা মাসুম (সন্তান- ৩জন)
৯ম-এস. জি. আব্বাস ।
তৎকালীন গভর্ণমেন্টের ১৭৭৩ সালের ১৬ই জুন তারিখের ৫৯৫নং আদেশে দেখা যায়, নবাব মুরাদউদ্দৌলা ও তার পরিবারের জন্য মাসিক ৪০০ টাকা এবং সিরাজের সহধর্মিনী বেগম লুৎফুন্নিসার জন্য মাসিক ১০০০ টাকা ভাতা বরাদ্দ করা হয়। ১৭৮৬ সালে লুৎফুন্নিসার মৃত্যুর পর কোম্পানি তার প্রদত্ত ভাতা বন্ধ করে দেয়। ১৭৯৫ সালের ৮ই মে তারিখে মুরাদউদ্দৌলার প্রাপ্য ভাতা তদীয় ওয়ারিশগণের মধ্যে বণ্টন সম্পর্কে চিঠিপত্র পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে আসা যায়।
সিরাজকন্যা উম্মে জোহরা ছাড়াও নবাব মুরাদউদ্দৌলার বদরুন্নিসা বেগম নামে আরেকজন স্ত্রী ছিলেন, যার পরিচয় এ রকম : তিনি ছিলেন সিরাজের স্ত্রী লুৎফার আপন ভাই ইরান খাঁন-এর কন্যাসন্তান। উম্মে জোহরার মামাতো বোন ছিলেন বদরুন্নিসা বেগম। মুরাদউদ্দৌলার ঔরসে উম্মে জোহরা বেগমের এক পুত্র ও দুই কন্যা জন্মগ্রহণ করেন, পালক কন্যা ছিলেন চারজন। মুরাদউদ্দৌলার জীবন কালেই স্ত্রী উম্মে জোহরার মৃত্যু হয়েছিল। তাঁদের মৃত্যুর পর এক পুত্র শমসের আলী খান জীবিত ছিলেন এবং মুরাদউদ্দৌলার ২য় স্ত্রী বদরুন্নিসা বেগমের উলফাতুন্নিসা বেগম নামে এক কন্যা জীবিত ছিলেন।
মুরাদউদ্দৌলার প্রাপ্য ৪০০ টাকা ভাতার অংশ হিসেবে পুত্র শমসের আলী খান ১৮২ টাকা, ২য় স্ত্রীর কন্যা উলফাতুন্নিসা ৯১ টাকা, ২য় স্ত্রী বদরুন্নিসা বেগম ৯১ টাকা এবং তাঁদের দেখাশুনার জন্য উকিলের বেতন মাসিক ৩০ টাকা এবং ধর্মীয় শিক্ষার জন্য ২ জন ক্বারীর বেতন মাসিক ৩ টাকা হিসাবে ৬ টাকা, মোট ৪০০ টাকা বরাদ্দ করা হয়। শমসের আলী খানের মৃত্যুর পর তাঁর প্রাপ্য ভাতা তাঁর ওয়ারিশদের মধ্যে নিম্নহারে বণ্টন করা হয়। পুত্র লুৎফে আলি ৭০ টাকা, দ্বিতীয় পুত্র জয়নাল আবেদীন ও পালকপুত্র ৬০ টাকা, স্ত্রী ৩৬ টাকা, নিকট আত্মীয় ১৬ টাকা। মোট ১৮২ টাকা। মুরাদউদ্দৌলার ২য় স্ত্রী লুৎফার আপন ভাইজি বদরুন্নিসা বেগম এবং কন্যা উলফাতুন্নিসা বেগমের মৃত্যুর পর তাদের প্রাপ্য ভাতা তাদের ওয়ারিশদের মধ্যে বরাদ্ধ করা হয়। তার কোন অংশ শমসের আলী খানকে দেওয়া হয়নি। তাতে পরিষ্কার বুঝা যায় যে, শমসের আলী খান বদরুন্নিসা বেগমের গর্ভজাত পুত্র ছিলেন না। তিনি ছিলেন সিরাজ কন্যা উম্মে জোহরার পুত্র। (মুর্শিদাবাদে নিযুক্ত গভর্ণর জেনারেলের এজেন্ট ডাবলিউ. বি. বাকলে কর্তৃক বেঙ্গল গভর্ণমেন্ট সচিব অ্যাশলে ইডেনকে লিখিত ইং ১৮৬১ সালের ২৫ শে জানুয়ারি তারিখের পত্র)।
শমসের আলী খানের পালক পুত্র মারা গেলে সরকার তার প্রাপ্য ভাতা শমসের আলী খানের পুত্রকে না দিয়ে দূরবর্তী আত্মীয় মির্জা আলী খানকে বরাদ্দ করেন। তাতে বোঝা যায় পেনশন বরাদ্দের ব্যাপারে সরকার শরীয়ত আইনের কোনো ধার ধারতেন না। রেসিডেন্টের মর্জি মাফিক সিদ্ধান্তই কার্যকর হতো। সৈয়দ লুৎফে আলী ১৮৩৩ সালে একমাত্র কন্যা ফাতিমা বেগমকে রেখে ইন্তেকাল করেন। তিনি পিতার ৮০ টাকা, দাদীর ৩৬ টাকা এবং আত্মীয়ের ২৫ টাকা, মোট ১৪১ টাকা পেনশন পেতেন। (গভর্নমেন্টের ২৫শে জানুয়ারি, ১৮৩৩ ও ২৮শে এপ্রিল, ১৮৪৭ তারিখের আদেশ)।
ফাতেমা বেগম ১৮৭০ সালে কন্যা হাসমত আরা বেগম ও লুৎফুন্নেসা বেগম সহ এক পালক কন্যা রেখে মারা যান এবং তাদের নিম্নহারে ভাতা দেওয়া হয়। হাসমত আরা বেগম ৩০ টাকা, লুৎফুন্নেসা বেগম (নিঃসন্তান) ৮১ টাকা, পালক কন্যা ৩০ টাকা বরাদ্দ করা হয়। (১৮৭১ সালের ৪ঠা জানুয়ারির ৩নং আদেশ)।
ফাতিমা বেগমের কন্যা হাসমত আরা বেগমের নিকাহ হয় সৈয়দ আলী রেজার সাথে। সৈয়দ আলী রেজা ১৮৯৭ সালে এবং হাসমত আরা বেগম ১৯৩১ সালের ২রা আগস্ট তারিখে ইন্তেকাল করেন। হাসমত আরা বেগমের এক পুত্র সৈয়দ জাকি রেজা এবং একজন পালক কন্যা ছিলেন। সৈয়দ জাকি রেজা মাসিক ১৫ (পনের) টাকা ভাতা পেতেন (গভ: আদেশ নং-৪১৮০ তারিখ ৩০/১/১৯৩২ এবং ১৫২ এন তারিখ ১০/৩/১৯৩২), এখানে বিশেষভাবে প্রকাশ থাকে যে, বাংলার প্রশাসনিক ও রাজস্ব বিভাগ ক্রমান্বয়ে মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা নিয়ে যাওয়া হলেও ভারতের গভর্ণর জেনারেলের পক্ষে বহুকাল যাবত মুর্শিদাবাদে একজন এজেন্ট জেনারেল নিযুক্ত থাকতেন। তিনি নবাব পরিবারের পেনশনাদির খবরদারী করতেন।
এই পরিবারের দুঃখজনক অবস্থার কথা ঢাকার নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহর কর্ণগোচর করা হলে তিনি তদানীন্তন বাংলার গভর্ণরের নিকট সৈয়দ জাকি রেজাকে একটি সম্মানজনক চাকরি দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেন। সদাশয় ইংরেজ সরকার অতি উদারতা দেখিয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলার ৬ষ্ঠ বংশধর সৈয়দ জাকি রেজাকে মুর্শিদাবাদের সাব রেজিষ্ট্রার নিযুক্ত করেন এবং পরবর্তীতে ডিস্ট্রিক্ট সাব রেজিষ্ট্রার পদে উন্নীত করেন। তিনি ১৯৩৪ সালে মুর্শিদাবাদে ইন্তেকাল করেন।
সৈয়দ জাকি রেজার পুত্র ছিলেন গোলাম মোর্তজা, সৈয়দ বাবু, কন্যা ছিলেন সৈয়দা কানজো, চাঁদ বেগম। পালক পুত্র ছিলেন ৪ জন, পালক কন্যা ছিল ২ জন। এরা সবাই ছোটখাটো চাকরি ও ব্যবসা করে মুর্শিদাবাদে ও পূর্ব বাংলায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন।
১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সকলেই পূর্ব বাংলা ও পাকিস্তানে চলে আসেন। সৈয়দ জাকি রেজার পুত্র গোলাম মোর্তজা মুর্শিদাবাদে কালেক্টরেটে চাকরি করতেন। দেশ বিভাগের পর অপশন দিয়ে পূর্ব বাংলার খুলনায় আসেন এবং রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার অফিসে চাকরিতে নিযুক্ত হন। সেখান থেকে অবসর নিয়ে খুলনায় বসবাস করতেন।
গোলাম মোর্তজার পুত্র হলেন ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ গোলাম মোস্তফা ওরফে এস.জি. মোস্তাফা ও গোলাম মুজতবা এবং কন্যা হলেন বেবি হামিদা বানু মুন্নি, পালক কন্যা-২ জন, পালক পুত্র-১জন। নবাব সিরাজউদ্দৌলার ৮ম বংশধর এস.জি. মোস্তাফা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বাংলাদেশের একজন নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সমাজ সেবা করে গেছেন। স্ত্রী: মহীয়সী নারী সৈয়দা হোসনে আরা বেগম (সিরাজের স্ত্রী লুৎফার ৮ম রক্তধারা এবং লুৎফা ও সিরাজের নাতনী) ছিলেন সৎ, সত্যবাদী, মমতাময়ী, গাছপালা পশুপাখির আপনজন, আল্লাহতাআলা এবং তাঁর আমলের ভক্ত, অন্যের দুঃখে দুখি, সকলের আপনজন একজন সু-গৃহিনী।
কিছু পুরুষের জীবনে সাফল্য রচনায় সুন্দর মনের সুন্দর চিন্তার জীবন সঙ্গীর সুন্দর ভূমিকা থাকে। ঠিক তেমনি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ গোলাম মোস্তাফার জীবনের প্রতিটি সাফল্যের আড়ালে পারিবারিক গৃহলক্ষ্মী ছিলেন তাঁরই রূপসী সুন্দর মনের স্ত্রী মহীয়সী নারী সৈয়দা হোসনে আরা বেগম।
সৈয়দা হোসনে আরা বেগমের মাতা মহীয়সী নারী গুলশান আরা বেগমও ছিলেন সিরাজের স্ত্রী লুৎফার ৭ম রক্তধারা। তিনি ছিলেন বড়ই সাদা মনের বহুগুণের অধিকারিনী এক অনন্যা নারী। ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ গোলাম মোস্তাফা এবং মহীয়সী নারী সৈয়দা হোসনে আরা বেগমের পুত্র, ঐতিহ্যবাহী নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরিবারের তরুণ ৯ম বংশধর সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেব ওরফে নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলা প্রকৃতিপ্রেমি ও নবাব সিরাজের স্মৃতিধন্য তারুণ্যের একটি সংগঠনের নির্বাহি প্রধান এবং সাপ্তাহিক “পলাশী” পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর নবাবজাদা আরেব আমার ছাত্র।
ঢাকা প্রেসক্লাবে সেন্টার ফর মিলিটারি হিস্ট্রি -র অনুষ্ঠিত পলাশী শীর্ষক আলোচনা সভায় (২৩ জুন ২০১৪) সাবেক সেনা প্রধান লেঃ জেনারেল (অব.) মোঃ নুরউদ্দিন খান, ইতিহাসবিদ ড. শেখ আকরাম আলী, শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. রমিত আজাদ, বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ প্রফেসর ড. কে এম মোহসীন, নবাব সিরাজউদ্দৌলার অষ্টম বংশধর ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ গোলাম মোস্তফা সহ সাবেক সেনা কর্মকর্তারা ঐতিহ্যবাহী নবাব সিরাজউদ্দৌলা রক্তধারার ৯ম প্রজন্ম সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেবকে “নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলা” উপাধিতে সম্মানিত করেন।
একই বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরিষদের অনুষ্ঠানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার শুভ জন্মদিনে বাংলার দুই ইতিহাস পুরুষ পিতা-পুত্র ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ গোলাম মোস্তফা ও নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলাকে দেশ বরেণ্য বুদ্ধিজীবীরা সসম্মানে বরণ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ডক্টর রমিত আজাদ ও ইতিহাস রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুহাম্মদ তারিক উদ্দিন চৌধুরী। একই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরই নবাব সিরাজউদ্দৌলা স্মরণসভার মধ্য মনি হন নতুন প্রজন্মের সিরাজউদ্দৌলা বাংলার যুবরাজ নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলা।
নবাবজাদা ঢাকার দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় এবং আহসান উল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স এবং মাষ্টার্স কোর্স কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করেছেন। গোলাম আব্বাস আরেব একজন নিসর্গ প্রেমিক এবং বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির জাতীয় দৈনিক ও ম্যাগাজিনের ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, লেখক, গবেষক।
আমি একজন ইতিহাসবিদ হিসেবে বাংলাদেশের দেশপ্রেমী ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া (টিভি চ্যানেল, এফ.এম.রেডিও) ও সংবাদপত্রে উক্ত ইতিহাস ভিত্তিক তথ্য গুলো গুরুত্ব সহকারে বারবার প্রকাশ করার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।
আমি মনে প্রানে কামনা করি বাংলায় সংগঠিত পলাশী যুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস বাংলাদেশের মানুষের সামনে মিডিয়া বারবার প্রচার করুক। তাহলেই মানুষ প্রকৃত ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করে বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্যের বীরদের নিয়ে গর্ববোধ করবে।
আমি ঢাকার বর্তমান তরুন নবাবের কর্মসম্পৃহা ও সফলতায় আনন্দিত ও গর্বিত। আর তরুন নবাব আলি আব্বাসউদ্দৌলার সকল দেশপ্রেমী কাজে আমার দোয়া ও ভালবাসা থাকবে অনন্তকাল।
লেখক : বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ শিক্ষাবিদ ও আইন বিশেষজ্ঞ।
