Touch Bangladesh
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন নারী অধিকার নেত্রী গ্লোরিয়া স্টাইনেম

প্রতিবেদক
Jetkin Tina Raksam
সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১:৩৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

আন্তর্জাতিক | স্মরণ ও শ্রদ্ধা

৯২ বছর বয়সে চিরবিদায় নিলেন মার্কিন নারী অধিকার আন্দোলনের আইকন গ্লোরিয়া স্টাইনেম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | TouchBangladesh
০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মার্কিন লেখক, বাগ্মী এবং বিশ্বজুড়ে নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব গ্লোরিয়া স্টাইনেম ৯২ বছর বয়সে মারা গেছেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে লিঙ্গসমতা ও নারীদের প্রজনন অধিকার নিয়ে লড়াই করা এই মহীয়সী নারীর মৃত্যুর খবরটি বৃহস্পতিবার তাঁর ফাউন্ডেশনের এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে নিশ্চিত করা হয়। ১৯৬০-এর দশকের শেষভাগ থেকে নারীবাদী আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হওয়া গ্লোরিয়া বুধবার শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

গ্লোরিয়া স্টাইনেমের বর্ণাঢ্য জীবন একনজরে

  • 🌟 জন্ম ও পরিচয়: ২৫ মার্চ ১৯৩৪ সালে ওহিওর টোলেডোতে জন্ম; মার্কিন নারীবাদী নেত্রী ও লেখক।
  • 📰 যুগান্তকারী ভূমিকা: ১৯৭১ সালে ‘মিস (Ms.) ম্যাগাজিন’ এবং ‘ন্যাশনাল উইমেন্স পলিটিক্যাল ককাস’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা।
  • 🏅 সর্বোচ্চ স্বীকৃতি: নারী অধিকারে অবদানের জন্য ২০১৩ সালে ওবামার কাছ থেকে ‘প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ লাভ।
  • 🎬 সাংস্কৃতিক প্রভাব: তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র ‘দ্য গ্লোরিয়াস’ (২০২০) ও প্রামাণ্যচিত্র ‘গ্লোরিয়া: ইন হার ওন ওয়ার্ডস’।

সাহসী সাংবাদিকতা থেকে নারীমুক্তির কাণ্ডারি

স্মিথ কলেজ থেকে স্নাতক শেষে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা গ্লোরিয়া ১৯৬৩ সালে ছদ্মবেশে একটি প্লেবয় ক্লাবে ‘বানি’ হিসেবে কাজ করেন। তাঁর সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা ‘এ বানিস টেল’ নামক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি নারীদের প্রতি বৈষম্য ও কম মজুরির ভয়ংকর চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করে। পরবর্তীতে তিনি ‘মিস ম্যাগাজিন’-এর মাধ্যমে গতানুগতিক রূপচর্চা বা রান্নার খবরের বদলে নারীদের সমান মজুরি, পারিবারিক সহিংসতা এবং গর্ভপাতের অধিকারের মতো সাহসী বিষয়গুলো নিয়ে সরব হন।

গ্লোরিয়া স্টাইনেমের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য ও কর্ম

কর্মের ধরন বিস্তারিত তথ্য
প্রকাশনা ও প্রবন্ধ ‘নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিন’ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা এবং আলোচিত প্রবন্ধ ‘আফটার ব্ল্যাক পাওয়ার, উইমেন্স লিবারেশন’ প্রকাশ (১৯৬৮)।
বই ও আত্মজীবনী ‘মাই লাইফ অন দ্য রোড’ (২০১৫), আত্ম-উন্নয়নমূলক ‘রেভোলিউশন ফ্রম উইথিন’ এবং ‘মেরিলিন: নরমা জিন’ (১৯৮৬)।
সংগঠন প্রতিষ্ঠা কোয়ালিশন অফ লেবার ইউনিয়ন উইমেন, উইমেন্স মিডিয়া সেন্টার এবং ভোটারস ফর চয়েস গঠন।
প্রামাণ্যচিত্র এমি বিজয়ী ‘মাল্টিপল পার্সোনালিটিজ’ (১৯৯৩) এবং ভাইস্ল্যান্ডের ‘উইমেন’ সিরিজের সঞ্চালনা।

ব্যক্তিগত দর্শন ও বিপ্লবের সমার্থক এক জীবন

গ্লোরিয়া স্টাইনেম বিয়ে ও সমাজের প্রথাগত সীমাবদ্ধতার কড়া সমালোচক ছিলেন। তাঁর মতে, “পুরুষরা ঘরের ভেতরে নারীদের সমান না হওয়া পর্যন্ত নারীরা ঘরের বাইরে সমান হতে পারবে না।” জীবনে কোনো সন্তান না নেওয়া এই মহীয়সী ৬৬ বছর বয়সে পরিবেশবাদী ডেভিড বেলকে বিয়ে করে সবাইকে চমকে দেন এবং প্রমাণ করেন যে নারীবাদ মানেই হলো নিজের জীবনের সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা। তাঁর জীবনীকার ক্যারোলিন হেইলব্রুন তাঁকে যথার্থই “নারী সৌন্দর্য ও নারী বিপ্লবের নিখুঁত সমার্থক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।