![]()
প্রেম ও অতিরিক্ত রোমান্সনির্ভর সিনেমা এবং নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারে মনোযোগ বাড়ানো এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা থামানোর উদ্দেশ্যে এ ধরনের কনটেন্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
- ⚖️ রিট দায়েরকারী: সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন।
- 🚫 নৈতিক অবক্ষয়ের অভিযোগ: নাটক ও চলচ্চিত্রে পরকীয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও ব্যভিচারকে মহিমান্বিত করা সমাজে অপরাধ প্ররোচিত করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
- 📜 সংবিধানের ধারার প্রয়োগ: সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ (বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতায় যুক্তিসংগত বাধানিষেধ) এবং ২৩ অনুচ্ছেদ (জাতীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ)-এর আলোকে বাধানিষেধের দাবি জানানো হয়।
- 🔬 বিকল্প কনটেন্ট নির্মাণের দাবি: প্রেমনির্ভর কাহিনীর বদলে ইতিহাস, বিজ্ঞান, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক নাটক-সিনেমা নির্মাণ বাধ্যতামূলক করার আবেদন জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণার উদ্ধৃতি ও সামাজিক প্রভাব
রিট আবেদনে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’, ‘হিন্দুস্তান টাইমস’ ও ‘ডেইলি সাবাহ’-এ প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণার বরাত দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, অবাধ ও অতিরিক্ত উসকানিমূলক রোমান্টিক গণমাধ্যম কনটেন্ট তরুণদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি করে। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাকস্বাধীনতা থাকলেও শালীনতা ও জননৈতিকতার স্বার্থে রাষ্ট্রে এটি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ না পাওয়ায় আইনি পদক্ষেপ
এর আগে গত ২৭ আগস্ট এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, সংস্কৃতি সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে কাঙ্ক্ষিত আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় রবিবার হাইকোর্টে এই রিট আবেদন জমা দেওয়া হয়। রিটে প্রেমনির্ভর কাহিনীর বদলে তরুণদের দেশপ্রেম জাগ্রত করতে সৃজনশীল ও বিজ্ঞান-শিক্ষা কেন্দ্রিক কনটেন্ট সম্প্রচারের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
প্রেমভিত্তিক কনটেন্ট বন্ধের রিট সংক্রান্ত তথ্য একনজরে
| বিষয় / সূচক | বিবরণ |
|---|---|
| রিট আবেদনকারী | আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন |
| মামলার বিবাদীগণ | মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য সচিব, সংস্কৃতি সচিব ও সেন্সর/সার্টিফিকেশন বোর্ড চেয়ারম্যান |
| দাবিকৃত নতুন বিকল্প কনটেন্ট | বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক চলচ্চিত্র/নাটক |
| আদালতে উত্থাপিত ধারা | বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৩ (সংস্কৃতি) এবং অনুচ্ছেদ ৩৯ (বাকস্বাধীনতা) |
| আগের আইনি নোটিশের তারিখ | ২৭ আগস্ট, ২০২৬ |
