![]()
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং লোহিত সাগর উপকূলীয় গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাইছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। শনিবারের এই হামলায় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর বেশ কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, শনিবার ভোরে রিয়াদের বিমানবন্দর সংলগ্ন একটি জ্বালানি ডিপোতে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। এর পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়, যার ফলে ডজনখানেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল ও দীর্ঘ বিলম্বের মুখে পড়ে।
হামলার পরপরই রিয়াদ ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সৌদি সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ গভীর রাতে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দিয়ে মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কসংকেত পাঠায়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের আবাসিক ভবনের জানালা পর্যন্ত কেঁপে ওঠে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-সারিয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, রিয়াদের কৌশলগত অবকাঠামো এবং উপকূলীয় শহর ইয়ানবুতে অবস্থিত আরামকোর স্থাপনায় বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে এই সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি জোটের সাম্প্রতিক বিমান হামলার কড়া জবাব দিতেই এই ‘বিশেষ অপারেশন’ চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, সৌদি সামরিক জোটের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রেখে রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা প্রধান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ তাইফ, ফারাসান এবং ইয়ানবু অঞ্চলে বেশ কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এতে অবকাঠামোগত কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতি কিংবা প্রাণহানি হয়েছে কি না, তা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি রিয়াদ।
পরিস্থিতির আকস্মিক অবনতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ওই অঞ্চলে থাকা নিজস্ব নাগরিকদের চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং সামরিক সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।
