Touch Bangladesh
ঢাকারবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

ডায়াবেটিসে শুকনো ফল: কোনটি খাবেন ও কতটা নিরাপদ !

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Loading

ডায়াবেটিস রোগীদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা নিয়ে নানা বিভ্রান্তি ও প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে শুকনো ফল বা ‘ড্রাই ফ্রুটস’ খাওয়া নিরাপদ কি না—তা নিয়ে অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন।

পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক ধরনের শুকনো ফল পরিমিত পরিমাণে খাওয়া হলে তা ডায়াবেটিস রোগীর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং বেশ উপকারী হতে পারে। তবে প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় পানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় শুকনো ফলে শর্করা ও ক্যালরির ঘনত্ব স্বাভাবিক ফলের চেয়ে অনেকটাই বেশি থাকে। তাই এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণের বিষয়ে কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন।

কতটুকু খাওয়া নিরাপদ?

ডায়াবেটিস থাকলে একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণে শুকনো ফল খাওয়া একেবারেই অনুচিত। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, প্রতিদিন অল্প এক মুঠো বা দুই-তিন টুকরোর বেশি শুকনো ফল না খাওয়াই ভালো।

তবে ব্যক্তিভেদে রক্তের শর্করার মাত্রা, শারীরিক পরিশ্রম, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও ওষুধের ওপর নির্ভর করে এই পরিমাণ কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

কোন শুকনো ফলগুলো বেছে নেবেন?

  • আখরোট: এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং অসম্পৃক্ত স্বাস্থ্যকর ফ্যাট (আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট) রয়েছে। এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে অসময়ে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে।

  • বাদাম: কাঠবাদাম বা কাজুবাদামে রয়েছে পর্যাপ্ত ফাইবার, প্রোটিন ও উপকারী ফ্যাট। পরিমিত বাদাম খেলে শরীরের সার্বিক পুষ্টির চাহিদা মেটে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়ে না।

  • কিশমিশ: কিশমিশে প্রাকৃতিক চিনি খুব ঘন আকারে থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে কিশমিশ অত্যন্ত অল্প পরিমাণে খাওয়া উচিত, যাতে মোট কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

  • শুকনো এপ্রিকট: এতে প্রয়োজনীয় ফাইবার ও বিভিন্ন অনুপুষ্টি (মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট) বিদ্যমান। তবে এতেও শর্করার পরিমাণ বেশি থাকায় পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি।

তাজা ফল নাকি শুকনো ফল?

খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুকনো ফলের চেয়ে তাজা ফল খাওয়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সবসময় বেশি নিরাপদ। তাজা ফলে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় শর্করা কম ঘন অবস্থায় থাকে। অন্যদিকে, খুব অল্প পরিমাণের শুকনো ফল খেলেও শরীরে একবারে অনেকটা কার্বোহাইড্রেট প্রবেশ করতে পারে।

তাই তাজা ফলের সম্পূর্ণ বিকল্প হিসেবে না দেখে, শুকনো ফলকে খাদ্যাভ্যাসের একটি সীমিত অংশ হিসেবে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

বাজার থেকে কেনার সময় সতর্কতা

বাণিজ্যিকভাবে প্রক্রিয়াজাত অনেক শুকনো ফলে অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি সিরাপ বা প্রিজারভেটিভ যোগ করা হয়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

তাই কেনার সময় প্যাকেটের গায়ে পুষ্টিগুণের তালিকা (নিউট্রিশন ফ্যাক্টস) ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত। নিশ্চিত হতে হবে যে পণ্যটিতে আলাদা কোনো চিনি বা মিষ্টি উপাদান যোগ করা হয়নি।

মূলত, ডায়াবেটিস থাকলেই শুকনো ফল খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হয়ে যায় না। তবে এটি কীভাবে এবং কতটা খাওয়া হচ্ছে, তার ওপরই নির্ভর করে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি না। বিশেষ করে যারা ইনসুলিন নিচ্ছেন বা চিকিৎসকের অধীনে আছেন, তাদের নিয়মিত খাদ্যতালিকায় শুকনো ফল যুক্ত করার আগে কোনো নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।