Touch Bangladesh
ঢাকাশুক্রবার , ২২ মে ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  6. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  7. নতুন কর্মের খোঁজে
  8. নিত্যদিনের জীবন
  9. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  10. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  11. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  12. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  13. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  14. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
  15. সাম্প্রতিক বিশ্ব
আলোচিত সপ্তাহের খবর

‎অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপবাদ দেওয়া উচিত নয়

প্রতিবেদক
Md. Saiful Islam Journalist
মে ২২, ২০২৬ ২:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading


‎স্পীন ডক্টর ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেল

‎রাষ্ট্র একটি সভ্য সমাজের অভিভাবক। রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব হলো আইন, ন্যায়বিচার ও নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিত করা। কিন্তু যখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অভিযোগ প্রমাণের আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবে প্রচার করে, তখন তা আইন বহির্ভূত হয়। রাষ্ট্রীয়বাদী দেশে বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র কখনোই অপবাদ, গুজব ও জনরায়ের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে পারে না; বরং রাষ্ট্র পরিচালিত হয় প্রমাণ, আইন ও ন্যায়ের ভিত্তিতে।

‎রাষ্ট্রীয়বাদী চিন্তাধারায় ব্যক্তি নয়, রাষ্ট্র ও তার প্রতিষ্ঠানই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। যদি জনগণ আদালতের আগেই বিচার করতে শুরু করে, এটি সম্পূর্ণ অপরাধ। এক্ষেত্রে বিচারব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে সমাজে বিশৃঙ্খলা, প্রতিহিংসা ও অরাজকতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তাই রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

‎বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অবাধ ব্যবহারের ফলে অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই “জনবিচার” শুরু হয়ে যায়। যার ফলে মব সন্ত্রাসের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, ব্যক্তিগত বিদ্বেষ কিংবা গোষ্ঠীগত স্বার্থে একজন মানুষকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এর ফলে ব্যক্তি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থাও দুর্বল হয়ে পড়ে। কারণ জনগণ তখন আইন নয়, গুজব ও আবেগকে বিচার হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করে।

‎একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য হলো— সেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকে। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয় এবং বিচার হয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে। যদি অভিযোগ প্রমাণের আগেই কাউকে অপবাদ দেওয়া হয়, তাহলে নিরপরাধ ব্যক্তির অধিকার ক্ষুণ্ন হয় এবং রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারের আদর্শ দুর্বল হয়ে পড়ে। ইতিহাস সাক্ষী, অপপ্রচার ও মিথ্যা অভিযোগ বহু মানুষের জীবন ধ্বংস করেছে এবং অনেক সময় রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতাকেও বিপন্ন করেছে। সুতরাং আমাদের বিচারব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তোলা উচিত যেখানে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার কাজ সম্পন্ন হবে।

‎রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধ থেকে আমাদের মনে রাখতে হবে— বিচার করার অধিকার আদালতের, জনতার নয়। একজন নাগরিক হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করা। কারণ রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং নাগরিকের সম্মান সুরক্ষিত থাকে।

‎অতএব, রাষ্ট্র ও সমাজের স্বার্থে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপবাদ দেওয়া থেকে বিরত থাকা জরুরি। এটি শুধু মানবিকতার দাবি নয়, বরং আইনের শাসন ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা রক্ষার পূর্বশর্ত। কারণ অপরাধী আজকে সে/তিনি, আগামীকালকে আমিও হতে পারি। তবে, দোষীকে নয়, দোষকে ঘৃণা করো। আমাদের দেশ এখন অপরাধের নিত্যদিনের সঙ্গী। একটি দায়িত্বশীল জাতি কখনো গুজবের ওপর দাঁড়ায় না; বরং সত্য, প্রমাণ ও ন্যায়ের ওপরই তার ভিত্তি নির্মিত হয়।

‎লেখক: স্পীন ডক্টর ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেল (সিইও, প্রতিষ্ঠাতা: বাংলাদেশ সাপোর্টার্স ফোরাম)

‎[বি.দ্র. : এটি  কারো প্রতি চাপিয়ে দেওয়ার জন্য নয়। প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব মতামত রয়েছে।  রাষ্ট্রীয়বাদী ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেলের নিজস্ব মতের পরিপ্রেক্ষিতে লেখা। ]

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।