![]()
ভারতের কেরালা রাজ্যে হঠাৎ দেখা দেওয়া আকস্মিক বন্যা (হড়পা বান) ও একাধিক স্থানে ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত দুজন। উদ্ধারকারীরা নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
রাজ্যটির মালাপ্পুরম, ইদুক্কি ও কোট্টায়াম জেলায় মূল বিপর্যয়গুলো ঘটে। কেরালা রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্থানীয়ভাবে তাৎক্ষণিক বৃষ্টিপাত না হলেও উজানের পাহাড়ি বনাঞ্চলে ভারী বর্ষণ হওয়ায় নিম্নাঞ্চলের নদীগুলোতে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে পানির উচ্চতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পায়।
কোথায় কী ঘটলো
-
মালাপ্পুরম: নীলাম্বুরের কাছে কোট্টাপুঝা নদীতে হঠাৎ পাহাড়ি ঢল নামায় নদীতে থাকা বেশ কয়েকজন ভেসে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা একজনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও পরে উদ্ধারকারী দল কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
-
ইদুক্কি: ভাট্টাভাদার কোট্টাকম্বুর এলাকায় পাহাড়ি মাটি ধসে একই পরিবারের দুজন—বালাকৃষ্ণন ও চিন্নু নামের দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃষ্টির সময় কৃষিজমির একটি অস্থায়ী ছাউনিতে আশ্রয় নেওয়ার পর পাহাড়ের কাদা ও পাথর তাদের ওপর ভেঙে পড়ে।
-
কোট্টায়াম: টিকয় এলাকার ভেলাথুস্সেরিতে ভূমিধসের কবলে পড়ে তামিলনাড়ু থেকে আসা সঙ্গীতা অরুল লাল (৩৫) নামের এক নারী প্রাণ হারান। পর্যটনকেন্দ্র ভ্যাগামন থেকে ফেরার পথে কাদা ও পাথরের নিচে আটকা পড়েন তিনি।
জরুরি সতর্কতা ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস
পরিস্থিতি মোকাবেলায় মালাপ্পুরমের নীলাম্বুরে জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান বাহিনীর (এনডিআরএফ) দল মোতায়েন করা হয়েছে। ইদুক্কি ও কোট্টায়াম জেলার বাসিন্দাদের জন্য মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, কেরালায় ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। পাহাড়ি বনাঞ্চলে বৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চলে আচমকা পানি বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকায় নদী ও জলাশয়ের কাছাকাছি না যাওয়ার জন্য সর্বসাধারণকে সতর্ক করা হয়েছে।
