![]()
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সরাসরি পড়তে শুরু করেছে দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে। পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে রাজধানীর খুচরা বাজারে বাড়তে শুরু করেছে বেগুন, ডিম, কাঁচামরিচ, আটা ও ভোজ্যতেলসহ অন্তত ১০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম।
হঠাৎ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেরা।
সরকার ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর রাজধানীর বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের শাকসবজি ও মসলাজাতীয় পণ্যের দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বাজারে যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে
রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতিকেজি বেগুন আকার ও মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১৩০ টাকায়, যা দুদিন আগেও ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা। একইভাবে:
-
শসা: কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৮০ টাকা (আগে ছিল সর্বনিম্ন ৪০ টাকা)।
-
কাঁচামরিচ: কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৬০ টাকা।
-
ডিম: ফার্মের মুরগির ডিমের দাম হালিপ্রতি ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫ টাকা হয়েছে।
-
অন্যান্য পণ্য: খোলা আটা প্রতিকেজি ৫০ টাকা, ময়দা ৭০ টাকা, বড় দানার মসুর ডাল ৯৫ থেকে ১০০ টাকা এবং খোলা পামওয়েল লিটারপ্রতি ১৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে পাইকারি বাজার থেকে পণ্য আনার পরিবহণ খরচ তাৎক্ষণিকভাবে বেড়ে গেছে।
নয়াবাজারের এক মুদি ব্যবসায়ী বিবিসি বাংলাকে জানান, “জ্বালানি তেলের দাম ঘোষণার পরপরই ট্রাক ভাড়া বেড়ে গেছে। ফলে নতুন যেসব পণ্য বাজারে আসছে, সেগুলোতে বাড়তি দাম না ধরে উপায় থাকছে না।”
পরিবহণ ব্যয়ের প্রভাব
পণ্য পরিবহণের ব্যয় কতটা বেড়েছে, তার একটি চিত্র পাওয়া যায় ট্রাক শ্রমিকদের কথায়।
ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তালুকদার মোহাম্মদ মনির জানান, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে দূরপাল্লার পণ্য পরিবহণে বাড়তি ভাড়া গুণতে হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “বগুড়া থেকে ঢাকায় একটি ট্রাকের ভাড়া আগে যেখানে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা ছিল, সেখানে এখন অতিরিক্ত দুই থেকে তিন হাজার টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।”
এই অতিরিক্ত ভাড়ার পুরো চাপটাই এসে পড়ছে সাধারণ ভোক্তার ওপর।
বিপাকে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ
আয়ের কোনো পরিবর্তন না হলেও খরচের খাতা বড় হতে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষেরা।
নয়াবাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. সোহাগ নিজের দুশ্চিন্তার কথা তুলে ধরে বলেন, “৪২ হাজার টাকা বেতনে পাঁচ সদস্যের সংসার চালানো এমনিতেই কঠিন। মাসের শেষ দিকে হাত খালি হয়ে যায়। এর ওপর যদি খাবার আর পরিবহণ খরচ আবার বাড়ে, তবে ঋণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।”
ভোক্তা অধিকার সংস্থা কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু গাড়িতে জ্বালানি নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক সাপ্লাই চেইনে পড়ে। শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি খরচের পুরো বোঝাটাই চাপানো হয় ভোক্তার ঘাড়ে।”
এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে বাজারে নজরদারি ও তদারকি জোরদার করার কথা জানিয়েছে সরকার। তবে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নীতিগত সিদ্ধান্ত ও মনিটরিং শক্ত না হলে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব অন্যান্য সেবা খাতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
