![]()
ইরান বর্তমানে শত্রুভাবাপন্ন শক্তিসমূহের বিরুদ্ধে এক সর্বাত্মক ও পূর্ণাঙ্গ সম্মিলিত (হাইব্রিড) যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পদাতিক বাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কারামি। তাঁর মতে, এই বহুমাত্রিক যুদ্ধের মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও মনস্তাত্ত্বিক—সব কটি দিকই সমানভাবে বিদ্যমান।
- 🌐 সর্বাত্মক হাইব্রিড যুদ্ধ: অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও মনস্তাত্ত্বিক ফ্রন্টে শত্রুর বহুমুখী আক্রমণ।
- 💻 সাইবার ও মিডিয়া যুদ্ধ: জনমত প্রভাবিত করতে এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরিতে শত্রুপক্ষের সংবাদমাধ্যম ও সাইবার স্পেসের অপব্যবহার।
- 🇵🇸 ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলা: অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তেহরানের শক্ত অবস্থানের পুনর্ব্যক্ত প্রকাশ।
- 🛡️ প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার: কোনো ধরনের অন্যায় ও নিপীড়নের কাছে নতি স্বীকার না করে প্রতিরোধ জারি রাখার ঘোষণা।
মিডিয়া ও সাইবার জগতে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের তীব্রতা
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা আইআরজিসি পদাতিক বাহিনীর প্রধানের এই বক্তব্য প্রকাশ করে।
কমান্ডার মোহাম্মদ কারামি জানান, বর্তমান সংজ্ঞানাত্মক বা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে শত্রুপক্ষ সাধারণ মানুষের মানসিক সক্ষমতা লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। জনমত নিজেদের পক্ষে প্রভাবিত করতে এবং জনগণের মধ্যে মানসিকভাবে অস্থিতিশীলতা ও চাপ তৈরি করতে সাইবার জগত ও বৈশ্বিক গণমাধ্যমকে ব্যাপকভাবে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি আগ্রাসন ও ফিলিস্তিনের পাশে থাকার অঙ্গীকার
বক্তব্যে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমাগত হামলার তীব্র সমালোচনা করেন আইআরজিসি কমান্ডার। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তেহরান যেকোনো ধরনের অন্যায়, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সর্বদা বিশ্বজুড়ে নিপীড়িতদের পাশে শক্ত অবস্থান নিয়েছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর যতই মনস্তাত্ত্বিক বা কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হোক না কেন, যেকোনো ধরনের আন্তর্জাতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের এই নীতিগত প্রতিরোধ আন্দোলন অবিচল থাকবে।
ইরানের হাইব্রিড যুদ্ধ ও আইআরজিসির অবস্থান এক নজরে
| বিষয়বস্তু | বিবরণ ও কৌশলগত অবস্থান |
|---|---|
| বক্তব্য প্রদানকারী | ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কারামি (কমান্ডার, আইআরজিসি পদাতিক বাহিনী)। |
| যুদ্ধের ক্ষেত্রসমূহ | অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও মনস্তাত্ত্বিক। |
| শত্রুর প্রধান কৌশল | সংবাদমাধ্যম ও সাইবার স্পেসের মাধ্যমে জনমত বিভ্রান্ত করা ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি। |
| আঞ্চলিক নীতি | ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন ও সার্বিক প্রতিরোধ অব্যাহত রাখা। |
