![]()
প্রতিবেশী কোনো দেশ সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদদ জোগাতে থাকলে ভারতের জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র আপস করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। একই সঙ্গে সন্ত্রাসীদের ডেরা ও আস্তানায় প্রয়োজন অনুযায়ী সরাসরি হামলা চালাতে নয়াদিল্লি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও হুঁশিয়ারি প্রকাশ করেছেন তিনি।
- 🕊️ শান্তির আকাঙ্ক্ষা বনাম দুর্বলতা: ভারত শান্তিতে বিশ্বাসী ও অন্যের ভূখণ্ড গ্রহণে অনিচ্ছুক, তবে এই নীতিকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল হবে।
- ⚔️ পাল্টা হামলার প্রস্তুতি: সীমান্তপারের কোনো দেশ সন্ত্রাসবাদে ইন্ধন দিলে সরাসরি আঘাত হানতে প্রস্তুত ভারত।
- 🚫 সংলাপ বন্ধের শর্ত: সন্ত্রাসবাদ ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা একসাথে চলতে পারে না; সন্ত্রাস থাকলে সংলাপে বিরতি।
- 📍 প্রেক্ষাপট: ২০২৫ সালের পাহেলগাম হামলা ও তৎপরবর্তী পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী স্থাপনায় ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্মৃতিচারণ।
শান্তির নীতি মানে দুর্বলতা নয়
‘এনডিটিভি ডিফেন্স সামিট’-এ বক্তব্য রাখার সময় ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, তাঁর দেশ কখনই কোনো প্রতিবেশী বা অন্য কোনো রাষ্ট্রের ভূখণ্ড দখল করতে চায় না।
রাজনাথ সিং বলেন, “ভারত শান্তি চায়, যুদ্ধ চায় না। আমরা অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল বা কাউকে হুমকি দিতে চাই না। কিন্তু নীরব থাকা এবং দুর্বলতার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। আমরা শান্তির পক্ষে থাকলেও জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার জায়গায় এক চুল ছাড় দেব না।”
পাকিস্তানের দিকে ইঙ্গিত ও ‘সন্ত্রাস থাকলে সংলাপ নয়’
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাজনাথ সিংয়ের এই বক্তব্য মূলত পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও তাদের মদদদাতা গোষ্ঠীর প্রতি প্রত্যক্ষ ইঙ্গিত। তিনি স্পষ্ট জানান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা বা সহযোগিতার পরিবেশ তখনই থাকে যখন সন্ত্রাস বন্ধ হয়।
“ভারত সংলাপে বিশ্বাসী এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে সহযোগিতা বাড়াতে চায়, কিন্তু তা কোনোভাবেই জাতীয় স্বার্থের বিনিময়ে নয়। যদি কোনো দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া চালিয়ে যায়, তবে সেখানেই যাবতীয় আলোচনা ও কূটনীতির অবসান ঘটবে,” মন্তব্য রাজনাথের।
পাহেলগাম হামলা পরবর্তী নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সামরিক সক্ষমতা
প্রসঙ্গ উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পর্যটনকেন্দ্র পাহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় এক নেপালি নাগরিকসহ ২৬ জন নিহত হন। জবাবে ভারত পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদ, কোটলি, বাহাওয়ালপুর, রাওয়ালাকোটসহ বিভিন্ন স্থানে থাকা সন্ত্রাসী আস্তানায় সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালুর কথা নিশ্চিত করেছিল।
এনডিটিভি ডিফেন্স সামিটে ভারতের সামরিক শীর্ষ কর্মকর্তা, প্রতিরক্ষাবিদ এবং শিল্প প্রতিনিধিরা দেশের বর্তমান প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি, দেশীয় সামরিক শিল্প কারখানা বৃদ্ধি ও যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলার কৌশল নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
এনডিটিভি ডিফেন্স সামিটে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অবস্থান
| মূল বিষয় | ভারতের নীতিগত অবস্থান ও রাজনাথ সিংয়ের বার্তা |
|---|---|
| জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব | কোনো আপস নেই; প্রয়োজনে সীমান্ত ছাড়িয়ে হামলা চালানো হবে। |
| কূটনৈতিক সংলাপের শর্ত | সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা বা সমঝোতা সম্ভব নয়। |
| বৈদেশিক নীতি ও ভূখণ্ড | শান্তিকামী, অন্যের জমি দখলের উদ্দেশ্য নেই, তবে আক্রমণ মোকাবিলায় সোচ্চার। |
