![]()
বিগত দিনের রাজনৈতিক অপব্যবহার ও অবৈধ নির্দেশ পালনের চর্চা ঝেড়ে ফেলে চলতি ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই পুলিশ সদস্যদের ইতিবাচক পরিবর্তন ও পেশাদারত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।
- ⏳ পরিবর্তনের ডেডলাইন: ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর আসার আগেই পুলিশের গুণগত পরিবর্তন দৃশ্যমান করতে হবে।
- 🚫 রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশ: বর্তমান সরকার পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে আইন অনুযায়ী স্বাধীন দায়িত্ব পালনের পূর্ণ সুযোগ দিচ্ছে।
- ⚖️ পানিশমেন্ট-রিওয়ার্ড নীতি: ভালো কাজের পুরস্কার এবং অপকর্ম ও অপরাধে বিভাগীয় শাস্তির সাথে ফৌজদারি বিচার হবে।
- 🛡️ জনগণের পুলিশ: ‘রাজা-বাদশাহ’ মনোভাব পরিহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গোয়েন্দা সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ।
রাজনৈতিক অপব্যবহার অতীত, এবার নিজেদের সংশোধনের সুযোগ
পুলিশ সদস্যদের অতীত ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার ও অপব্যবহারের অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। অনেক পুলিশ সদস্যকে অবৈধ নির্দেশ পালনেও বাধ্য করা হয়েছিল। তবে এখন আপনাদের সামনে নিজেদের সংশোধন ও নতুনভাবে দায়িত্ব পালনের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর আসার আগেই আপনাদের সেই পরিবর্তনটা কাজে করে দেখাতে হবে।”
তিনি স্পষ্ট করেন যে বর্তমান সরকার পুলিশ বাহিনীকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে না। সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এবং আইন অনুসরণ করে পুলিশকে তাদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
‘পানিশমেন্ট-রিওয়ার্ড’ চালু: অপরাধ করলে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি ফৌজদারি বিচার
পুলিশ বাহিনীর কাজের গতিশীলতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে ‘পানিশমেন্ট-রিওয়ার্ড’ (পুরস্কার ও শাস্তি) নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, যারা ভালো কাজ করবেন এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের যথোপযুক্ত পুরস্কৃত করা হবে।
অন্যদিকে, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, বিশৃঙ্খলা কিংবা অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মন্ত্রী বলেন, “বিশৃঙ্খলা ও অপরাধে শুধু বিভাগীয় শাস্তির মধ্যে ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ থাকবে না। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে একই সঙ্গে দেশের প্রচলিত আইনে মামলা ও কঠোর বিচার হবে।”
জনগণের পুলিশ হওয়া ও অস্থিতিশীলতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জনগণ এখন রাজা-বাদশাহ নয়, জনগণের পুলিশ দেখতে চায়। কোনো সিনিয়র কর্মকর্তা এমন কর্মকাণ্ড করবেন না, যা জনগণের কাছে অস্বাভাবিক বা অগণতান্ত্রিক মনে হয়। একইভাবে অধস্তন কোনো সদস্যের এমন কর্মকাণ্ডেও অনুমতি বা আশ্রয় দেওয়া যাবে না, যা সমাজে অশান্তি বা অস্বস্তি তৈরি করে।”
একই সাথে দেশে যারা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চায়, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশের গোয়েন্দা সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অধিকতর সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রধান বার্তা ও রূপরেখা
| বিষয়বস্তু | নির্দিষ্ট নির্দেশনা ও নীতি |
|---|---|
| সংস্কারের নির্দিষ্ট সময়সীমা | ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ এর মধ্যে নিজেদের ইতিবাচক রূপান্তর দৃশ্যমান করা। |
| কাজের পরিবেশ | রাজনৈতিক চাপমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে আইনের অনুশাসন মেনে চলা। |
| অপরাধ ও বিশৃঙ্খলার শাস্তি | বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রচলিত ফৌজদারি আইনে সরাসরি মামলা ও বিচার। |
| জনবান্ধব পুলিশি ব্যবস্থা | ‘রাজা-বাদশাহ’ ভাবমূর্তি বর্জন এবং অধস্তনদের অপরাধ প্রশ্রয় না দেওয়া। |
