![]()
রাজধানীর বারিধারায় অনিয়ন্ত্রিত প্রাইভেটকারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মিম (২৪) নিহতের মামলায় অভিযুক্ত ১৭ বছর বয়সী কিশোরের জামিন আবেদন বিবেচনায় না নিয়ে অধিকতর শুনানির জন্য আগামী ৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রোববার ঢাকার শিশু আদালত-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ শেষে এই আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে আইনজীবীদের আপস যুক্তি
শুনানিতে কিশোরের পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. গোলাম মোস্তফা খান ও অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেনসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী অংশ নেন।
প্রতিরক্ষা পক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান আদালতে দাবি করেন, মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এজাহারে) কিশোরের নাম ছিল না এবং ইতোমধ্যে নিহতের পরিবারের সঙ্গে আদালতের বাইরে ৯ লাখ টাকায় সমঝোতা করা হয়েছে। তিনি নিহতের পরিবারকে সেই অর্থ প্রদানের কথা উল্লেখ করে কিশোর বিবেচনায় জামিনের আবেদন জানান।
আইনজীবী আরও দাবি করেন, নিহত শ্রমিক শারীরিক অসুস্থতার কারণে গাড়ির হর্ন শুনতে পাননি, যার ফলে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
শুনানিকালে নিহতের বাবা, ভাই ও মামা আদালতে উপস্থিত থেকে জামিনে আপত্তি নেই বলে জানালে বিচারক মামলার গুরুত্ব ও আইনের বিধান স্মরণ করিয়ে দেন।
‘সমাজ ন্যায়বিচারের দিকে তাকিয়ে আছে’
আপসের আর্জির জবাবে বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, এই মামলাটি জামিনযোগ্য বা আপসযোগ্য কোনো ধারার আওতায় পড়ে না।
বিচারক মন্তব্য করেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর এবং একটি সমাজ ন্যায়বিচারের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। যদিও এতে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সাজার বিধান নেই, তবে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের সুযোগ রয়েছে। প্রচুর গণমাধ্যম কাভারেজ পাওয়া এই ধরনের স্পর্শকাতর মামলায় আদালতের সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।”
আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক জামিন আদেশ স্থগিত রাখলে কিশোরের আইনজীবী নিজেই আগামী রোববার (৪ অক্টোবর) অধিকতর শুনানির দিন ধার্য করার অনুরোধ জানান। আদালত সেই অনুরোধ গ্রহণ করে শুনানির তারিখ পিছিয়ে দেন।
ঘটনার পেছনের কথা
গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান। এ সময় একটি দ্রুতগতির প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে পিষে দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা চালকের আসনে থাকা ১৭ বছরের কিশোরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। তবে গুলশান থানা পুলিশ প্রথম রাতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কিশোরকে তার চাচার জিম্মায় ছেড়ে দিলে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পরদিন নিহতের ভাই মোক্তাদীর ইসলাম গুলশান থানায় মামলা দায়ের করলেও এজাহারে মূল চালকের নাম না রেখে ‘আকাশ মারক’ নামে অন্য একজনের নাম উল্লেখ করা হয়। তীব্র সমালোচনার মুখে পুলিশ বুধবার ওই কিশোরকে পুনরায় গ্রেফতার করে এবং আদালতের আদেশে তাকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
