![]()
অল্পবয়সী নারীরা হরমোনজনিত প্রাকৃতির কারণে হৃদরোগের বিরুদ্ধে কিছুটা সুরক্ষা পেলেও মেনোপজের পর তাঁদের এই ঝুঁকির মাত্রা পুরুষের প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে যায় বলে সতর্ক করেছেন ভারতের নামকরা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠি।
সামগ্রিকভাবে পুরুষদের তুলনায় নারীদের হার্ট অ্যাটাকের হার কম হলেও, মেনোপজের পর হরমোনের পরিবর্তন ও নানা জীবনযাপনগত কারণে এই ঝুঁকিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে বলে জানান তিনি।
ডায়াবেটিস ও খাদ্যাভ্যাসের নীরব প্রভাব
ডা. দেবী শেঠির মতে, আধুনিক খাদ্যাভ্যাস ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের সহজলভ্যতার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের মধ্যে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। জিনগত কারণেই এ অঞ্চলের মানুষের কম বয়সে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
তিনি বলেন, “আমরা প্রায়ই ডায়াবেটিসকে গুরুত্ব দিই না, কারণ এটি সঙ্গে সঙ্গে কোনো উপসর্গ তৈরি করে না। অনেকে কেবল একবার রক্তে শর্করার মাত্রা মেপে ভাবেন সব ঠিক আছে। কিন্তু গত তিন মাসের গড় রক্তের শর্করা পরিমাপক ‘এইচবিএ১সি’ (HbA1c) পরীক্ষা করেন না।”
সচেতনতার এই অভাবের কারণে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস নীরবে ধমনির ক্ষতি করে এবং পরবর্তী সময়ে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকল ও চোখের সমস্যার মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি করে।
বাইরে থেকে ফিট দেখালেই হার্ট সুস্থ নয়
পেশিবহুল বা দেখতে ফিট একজন মানুষের হৃদযন্ত্র সম্পূর্ণ সুস্থ—এমন ধারণা ভুল বলে মনে করেন এই চিকিৎসক।
তরুণদের শরীরচর্চার ধরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, নির্দিষ্ট শারীরিক গঠন বা ‘ফিট’ দেখানোর জন্য অনেকে যেসব খাদ্য-সাপ্লিমেন্ট ও হরমোন ব্যবহার করছেন, তা অনেক সময় রক্তনালীতে কোনো আগাম ব্লকেজ না থাকা সত্ত্বেও মারাত্মক হার্ট অ্যাটাকের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ডা. শেঠি বলেন, “আমাদের কাছে হার্ট অ্যাটাক নিয়ে আসা রোগীদের প্রায় ৫০ শতাংশই আগে কখনও না কখনও একটি ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’-এর শিকার হয়েছেন, যা তাঁরা নিজেরাও টের পাননি। তারা নিজেদের স্বাস্থ্যবান ভাবতেন, অথচ গোপনে তাঁদের হৃদযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল।”
মানসিক চাপ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণ
মানসিক চাপ সরাসরি কেবল হৃদরোগের মূল কারণ নয়, তবে যাঁদের ইতিমধ্যেই রক্তনালীতে ব্লকেজের প্রবণতা রয়েছে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অনিয়মিত জীবনযাপন তাঁদের রোগের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
হৃদরোগ ও ক্যানসারকে অকালমৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে ডা. দেবী শেঠি বলেন, “এই দুটি মারণব্যাধি যদি একদম প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব হয়, তবে দেশের সার্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এক বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।”
তিনি সবাইকে কেবল বাইরে থেকে ভালো বোধ করার ওপর নির্ভর না করে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে ধমনি ও রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
সূত্র: এনডিটিভি
