![]()
প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের হওয়া এক মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছেন জনপ্রিয় ছোটপর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশা। ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়ে বিরোধের জেরে দায়ের করা এ মামলায় মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন বর্ধিতের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাঁর জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আদেশ দেন।
- 👗 মামলার প্রেক্ষাপট: অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে ২৮,৮০০ টাকার শাড়ি নিয়ে প্রচার ও অর্থ না দেওয়ার অভিযোগ।
- ⚖️ আদালতের সিদ্ধান্ত: শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তানজিন তিশার জামিন বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর করেন।
- 🗣️ তিশার মন্তব্য: “আমি দেশের আইনের প্রতি বিশ্বাসী। সত্যের পক্ষে থাকতে প্রয়োজনে আরও পাঁচবার আদালতে আসব।”
- 📅 মামলার বিবরণ: ২০২৫ সালের নভেম্বরে মামলা দায়ের, ডিবি তদন্ত শেষে সমন ও গত ১৩ আগস্ট প্রথম জামিন লাভ।
আদালতের কাঠগড়ায় তিশা ও উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক
মঙ্গলবার বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান তানজিন তিশা এবং ১১টা ৪৫ মিনিটে এজলাসে হাজির হন। শুনানির শুরুতে তিনি বেঞ্চে বসে থাকলেও বাদীপক্ষের আইনজীবীর অনুরোধে কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়ান।
তিশার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খোরশেদ আলম। তিনি আদালতকে বলেন, “আসামি ইতিপূর্বে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছিলেন, আজ তাঁর জামিন বর্ধিতের আবেদন করছি।” অন্যদিকে বাদীপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জহিরুল হাসান মুকুল আবেদনের বিরোধিতা করে দাবি করেন, আসামি জামিন পেয়ে সামাজিক মাধ্যমে আইনজীবী ও বাদীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। বিচারক তখন কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা লিখিত পিটিশন আকারে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন।
মামলার মূল অভিযোগ ও ঘটনার পটভূমি
মামলার নথি অনুযায়ী, অনলাইনভিত্তিক ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে ২৮,৮০০ টাকা দামের একটি শাড়ি নিয়েছিলেন তানজিন তিশা। পেজটির প্রতিনিধিকে শাড়িটির প্রচারণা চালানো ও মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন বলে অভিযোগ তোলা হয়।
এ ঘটনার পর পেজটির প্রশাসক আমিনুল ইসলাম ২০২৫ সালের নভেম্বরে আদালতে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলা করেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ঘটনার তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দিলে গত ১২ জুলাই আদালত সমন জারি করেন। এর আগে গত ১৩ আগস্ট তিশা একই আদালতে হাজির হয়ে জামিন পেয়েছিলেন। তবে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে তিশা দাবি করেন, শাড়িটি তাঁকে ‘উপহার’ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
‘আমি আইনের প্রতি বিশ্বাসী, সত্যতা নিয়ে বাঁচতে চাই’
শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তানজিন তিশা। তিনি বলেন, “অনেকের মনে হতে পারে, আমি কেন বারবার আদালতে আসছি? কারণ হলো, আমি আইনের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখি। সেই বিশ্বাস থেকে আজ আবার এসেছি। আমার যদি আরও পাঁচবার আসা লাগে, আমি আবারও আসব।”
বাদীপক্ষকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, “আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক এবং সত্যতা নিয়ে বাঁচতে চাই। ক্ষমতার অপব্যবহার আমি সমর্থন করি না। দর্শক ও ভক্তদের ভালোবাসাই আমার আসল শক্তি।”
মামলার তথ্যচিত্র ও আইনি বিবরণী
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| আসামি ও বাদী | আসামি: তানজিন তিশা | বাদী: আমিনুল ইসলাম (অ্যাপোনিয়া পেজ প্রশাসক)। |
| অভিযোগ ও মূল্য | প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গ (২৮,৮০০ টাকা মূল্যের শাড়ি সংক্রান্ত)। |
| সংশ্লিষ্ট আদালত | ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। |
| বর্তমান আইনি অবস্থা | আত্মসমর্পণ করে জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি মঞ্জুর। |
