![]()
ফৈনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলোচিত ছাত্রী নুসরাত জাহান রফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ চ্যালেঞ্জ করে বেকসুর খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজউদ্দৌলা। একই মামলায় হাইকোর্টে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত আরও তিন আসামি খালাস চেয়ে সর্বোচ্চ আদালতে ‘লিভ-টু-আপিল’ দায়ের করেছেন।
- 🏛️ আপিল বিভাগে আবেদন: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা বেকসুর খালাস চেয়ে আপিল করেছেন; তিন যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামি জাবেদ, জুবায়ের ও পপি আবেদন করেছেন ‘লিভ-টু-আপিল’।
- 🛡️ আইনজীবীর দাবি: আসামিরা হত্যাকাণ্ড বা ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন না; নিগ্রহ ও নির্যাতনের মাধ্যমে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছিল।
- ⚖️ হাইকোর্টের পূর্বের রায়: হাইকোর্টে মূল ১৬ আসামির মধ্যে ১০ জন বেকসুর খালাস পান, ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় এবং ৪ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়।
- 🕯️ ঘটনার পটভূমি: ২০১৯ সালের মার্চে যৌন হয়রানির মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় এপ্রিল মাসে মাদরাসার ছাদে নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।
সর্বোচ্চ আদালতে চার আসামির খালাস প্রার্থনা
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এনেক্স ভবনের সামনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে আপিল ও লিভ-টু-আপিল দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী জ্যেষ্ঠ অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনি। অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও অ্যাডভোকেট জায়াদ বিন আমজাদের মাধ্যমে এই আবেদনগুলো জমা দেওয়া হয়।
যে তিন আসামি হাইকোর্টের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে লিভ-টু-আপিল করেছেন তারা হলেন— জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা ওরফে পপি। ব্রিফিংয়ে অ্যাডভোকেট শিশির মনি জানান, আবেদনকারী আসামিরা মূল হত্যাকাণ্ড বা এর পেছনের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত ছিলেন না এবং তদন্তের সময় নির্যাতন চালিয়ে জবরদস্তিমূলক কনফেশনাল স্টেটমেন্ট নেওয়া হয়েছিল।
হাইকোর্টের রায় ও আসামিদের আইনি অবস্থান
সংবাদ ব্রিফিংয়ে অ্যাডভোকেট শিশির মনি মামলার পূর্বের রায়ের পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বলেন, “নিম্ন আদালতের ১৬ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মধ্যে ১০ জনকে হাইকোর্ট বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন এবং তারা ইতিমধ্যে কারামুক্ত হয়েছেন। অবশিষ্ট ৬ জনের দণ্ড বহাল রাখা হয়, যার মধ্যে ২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট।”
তিনি আরও জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনের মধ্যে মূল অভিযুক্ত এস এম সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে নিয়মিত আপিল ফাইল করা হয়েছে এবং যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত চারজনের মধ্যে জুবায়ের, পপি ও জাবেদের পক্ষে লিভ-টু-আপিল দায়ের করা হলো।
দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা নুসরাত হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট
ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রফিকে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করেন মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা। ওই ঘটনায় নুসরাতের মা মামলা করলে পুলিশ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে মামলা তুলে নিতে নুসরাতের ওপর অনৈতিক চাপ দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
এরই জেরে ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে ডেকে নিয়ে মাদরাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসার পর ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান। ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্ত ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন। চলতি বছরের ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট রায় পর্যালোচনা করে সিরাজউদ্দৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ১০ জনকে খালাস এবং ৪ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করেন।
আসামিদের বর্তমান আইনি স্থিতি ও আপিল ট্র্যাকিং
| আসামির নাম ও পরিচিতি | হাইকোর্টের রায় | আপিল বিভাগের পদক্ষেপ |
|---|---|---|
| এস এম সিরাজউদ্দৌলা (সাবেক অধ্যক্ষ) | মৃত্যুদণ্ড বহাল | খালাস চেয়ে নিয়মিত আপিল পেশ। |
| সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের | যাবজ্জীবন কারাদণ্ড | খালাস চেয়ে লিভ-টু-আপিল দায়ের। |
| উম্মে সুলতানা ওরফে পপি | যাবজ্জীবন কারাদণ্ড | খালাস চেয়ে লিভ-টু-আপিল দায়ের। |
| জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত | যাবজ্জীবন কারাদণ্ড | খালাস চেয়ে লিভ-টু-আপিল দায়ের। |
