![]()
দেশে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হলেও অধরাই থেকে যাচ্ছেন মাদক সাম্রাজ্যের মূল কারিগর বা গডফাদাররা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অভিযানে কেবল খুচরা বিক্রেতা বা মাঠপর্যায়ের বাহকরা গ্রেফতার হলেও, ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন আড়ালের অর্থদাতা ও মূল নির্দেশদাতারা।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদককে কেন্দ্র করে খুন-খারাবি ও সহিংসতার একাধিক ঘটনা সামনে আসায় বিষয়টিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের সরাসরি মাদক বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে জানা যাচ্ছে।
সহিংসতার নেপথ্যে মাদক সিন্ডিকেট
গত কয়েক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদক বাণিজ্যের জেরে একাধিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে:
-
কুষ্টিয়া ও রাজশাহী: ১ অক্টোবর কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চোরাচালান ও এলাকার প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে টেঙ্গুর আলী নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
-
টঙ্গী ও কুমিল্লা: ২৯ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক যুবককে হত্যা করা হয়। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি কুমিল্লায় ১৩ বছরের এক স্কুলছাত্র নিখোঁজ হওয়ার পর তার লাশ উদ্ধার করা হয়; তদন্তকারীদের মতে, ভিকটিমের পরিবার এলাকায় মাদকবিরোধী পদক্ষেপ নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, দেশের শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা তৈরি করা হলেও তথ্যপ্রমাণের অভাব ও তাদের সামাজিক বা রাজনৈতিক প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
কেন অধরা গডফাদাররা?
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক কারবারের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিরা কৌশলগত কারণেই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “গডফাদাররা নিজেরা কখনও মাদক বহন বা সংরক্ষণ করেন না। তারা অত্যন্ত চতুর এবং সুদৃশ্য ড্রয়িংরুমে বসেই পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন। ফলে সরাসরি তাদের বিরুদ্ধে আদালত-গ্রহণযোগ্য সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।”
তবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে, চিহ্নিত অপরাধী ও মাদক কারবারিদের তালিকা তাদের হাতে রয়েছে এবং এদের বিরুদ্ধে চলমান চিরুনি অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মাদক দমনে মূল দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে সরাসরি মাদক বেচাকেনায় যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি ও প্রশ্ন বাড়াচ্ছে।
সম্প্রতি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং সিএমএম আদালতের মাদক ধ্বংস কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কনস্টেবলকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়।
তবে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ সদর দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত যে কারো বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
