![]()
শিশুদের স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি বলেছে, ৯ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওজন কমানোর ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা সাধারণভাবে সুপারিশ করা হয় না। তবে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে ওষুধ ও অস্ত্রোপচারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত স্থূলতায় ভোগা কিশোর-কিশোরীদের পাশাপাশি যাদের স্থূলতার সঙ্গে অন্যান্য স্বাস্থ্যগত জটিলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে এসব চিকিৎসাপদ্ধতি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রোগীর শারীরিক অবস্থা, ঝুঁকি এবং আগের চিকিৎসাপদ্ধতির ফলাফল মূল্যায়ন করা জরুরি।
খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চায় গুরুত্ব
শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির নির্দেশিকায় খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যক্রম, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, ওষুধ এবং অস্ত্রোপচারসংক্রান্ত বিদ্যমান গবেষণা ও তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রথমেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিশেষ করে ৯ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রিক বাইপাসের মতো অস্ত্রোপচার এবং জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে কখন ওষুধ বা অস্ত্রোপচার?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে গুরুতর স্থূলতা থাকলে এবং অন্যান্য পদ্ধতিতে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া গেলে ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে স্থূলতায় ভোগা এবং খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার মতো প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করেও উপকার না পাওয়া কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ ধরনের চিকিৎসা সবার জন্য নয়; বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
জিএলপি-১ ওষুধ নিয়ে উদ্বেগ
স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধের ব্যবহার ও চাহিদা বাড়ছে। তবে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে এসব ওষুধের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য এখনও নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
সংস্থাটির পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক লুজ মারিয়া ডি রেগিল জানিয়েছেন, এ ধরনের ওষুধের কার্যকারিতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে। নতুন তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে নির্দেশিকা সংশোধন করা হতে পারে।
এ কারণে কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে ওষুধ ব্যবহারের সুপারিশ শর্তসাপেক্ষ। একইভাবে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্তও সতর্কতার সঙ্গে নিতে হবে।
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে শিশুদের স্থূলতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রায় ১৭ কোটি শিশু ও কিশোর-কিশোরী স্থূলতায় ভুগছে। এর মধ্যে ৫ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, স্থূলতার সমস্যা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়লেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এর বোঝা বেশি। ভারতসহ এসব দেশের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লুজ মারিয়া ডি রেগিল।
শিশুদের স্থূলতা শুধু শারীরিক গঠনগত বিষয় নয়; এর সঙ্গে ভবিষ্যতে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতার ঝুঁকিও যুক্ত থাকতে পারে। তাই অল্প বয়স থেকেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত খেলাধুলা ও শারীরিক কার্যক্রমের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শিশুর ওজন নিয়ে উদ্বেগ থাকলে নিজে থেকে ওজন কমানোর ওষুধ দেওয়া বা কঠোর খাদ্যনিয়ন্ত্রণের পথে না গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
