Touch Bangladesh
ঢাকাশুক্রবার , ৯ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থ-বাণিজ্যের সমাধানের খোঁজে
  2. উন্নয়নের ছোঁয়ায় বিজ্ঞান তথ্য ও প্রযুক্তি
  3. খেলাধুলার আনন্দ
  4. ছবি কথা বলে
  5. টাচ বাংলা মুহুর্ত
  6. টাচ বাংলাদেশ সংবাদ
  7. ধর্মের স্বাধীনতার আওয়াজ
  8. নতুন কর্মের খোঁজে
  9. নিত্যদিনের জীবন
  10. বিশেষ সংবাদ সমূহ
  11. রাষ্ট্রের কল্যাণে সম্পাদকীয়
  12. রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন
  13. রেমিট্যান্সযোদ্ধার চেতনা
  14. শিক্ষার আলোর প্রস্তাব
  15. শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিনোদনের ঠিকানা
আলোচিত সপ্তাহের খবর

লিভারের সমস্যার ৫ লক্ষণ: হাত-পায়ে যে পরিবর্তন

প্রতিবেদক
Methon Mankhin
অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Loading

লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণও প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই জটিল আকার ধারণ করতে পারে লিভারের বিভিন্ন রোগ। জন্ডিস, পেট ফুলে যাওয়া কিংবা হজমের সমস্যাকে লিভারের অসুস্থতার পরিচিত লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও হাত-পায়ের কিছু পরিবর্তনও হতে পারে সতর্কসংকেত।

লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কিংবা সিরোসিসের মতো রোগের প্রভাবে ত্বক, নখ, রক্তনালি ও স্নায়ুতন্ত্রে বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তবে হাত-পায়ে এমন লক্ষণ দেখা দিলেই লিভারের রোগ হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণেও এসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

হাত-পায়ের যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন

১. হাতের তালু লাল হয়ে যাওয়া

হাতের তালু অস্বাভাবিকভাবে লাল হয়ে যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘পালমার এরিথেমা’ বলা হয়। লিভারের দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। সাধারণত দুই হাতের তালুতেই লালচে ভাব দেখা দেয়। কখনো হাতের তালু গরম অনুভূত হলেও সব ক্ষেত্রে ব্যথা বা চুলকানি থাকে না।

লিভারের রোগে হরমোনের ভারসাম্য ও রক্তনালির কার্যক্রমে পরিবর্তনের কারণে এমনটা হতে পারে। তবে গর্ভাবস্থা, হরমোনজনিত পরিবর্তন কিংবা অন্যান্য কারণেও হাতের তালু লাল হতে পারে। তাই শুধু এই লক্ষণ দেখে লিভারের রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়।

২. নখের রং ও গঠনে পরিবর্তন

নখের রং বা গঠনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কখনো কখনো শরীরের অভ্যন্তরীণ সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। লিভারের দীর্ঘস্থায়ী রোগে কিছু মানুষের নখ ফ্যাকাশে বা সাদাটে হয়ে যেতে পারে। নখের অধিকাংশ অংশ সাদা দেখানো এবং প্রান্তে তুলনামূলক গাঢ় রং থাকার মতো পরিবর্তনও দেখা যায়।

তবে নখের রং বদলে যাওয়ার পেছনে লিভারের রোগ ছাড়াও রক্তস্বল্পতা, পুষ্টির ঘাটতি, ছত্রাকের সংক্রমণসহ নানা কারণ থাকতে পারে। নখে দীর্ঘদিন অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

৩. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া

লিভারের গুরুতর রোগে শরীরে তরল জমে পা ও গোড়ালি ফুলে যেতে পারে। লিভারের কার্যক্ষমতা কমে গেলে রক্তে অ্যালবুমিন নামের প্রোটিনের মাত্রা কমে যেতে পারে। এতে শরীরের বিভিন্ন অংশে তরল জমার প্রবণতা বাড়ে। একই কারণে অনেক সময় পেটেও তরল জমে পেট ফুলে যায়।

তবে পা ফোলার কারণ শুধু লিভারের রোগ নয়। হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি কিংবা শিরার সমস্যার কারণেও পা ফুলতে পারে। হঠাৎ পা ফুলে গেলে, বিশেষ করে এক পায়ে ফোলার সঙ্গে ব্যথা বা লালচে ভাব থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

৪. ত্বকে মাকড়সার জালের মতো রক্তনালি দেখা দেওয়া

ত্বকের ওপর ছোট লাল বিন্দু থেকে চারদিকে সূক্ষ্ম রক্তনালি ছড়িয়ে মাকড়সার জালের মতো আকৃতি তৈরি হলে তাকে ‘স্পাইডার অ্যাঞ্জিওমা’ বলা হয়। লিভারের দীর্ঘস্থায়ী রোগ, বিশেষ করে সিরোসিসে আক্রান্ত কিছু মানুষের ত্বকে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

হরমোনের পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে ত্বকের ওপরের রক্তনালিগুলো এভাবে দৃশ্যমান হতে পারে। তবে ত্বকে সব ধরনের দৃশ্যমান শিরা বা রক্তনালির সঙ্গে লিভারের রোগের সম্পর্ক নেই। এ ধরনের পরিবর্তন নতুন করে দেখা দিলে বা বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৫. হাত-পায়ে ঝিনঝিনি, অসাড়তা বা জ্বালাপোড়া

হাত-পায়ে বারবার ঝিনঝিনি অনুভব করা, অসাড় হয়ে যাওয়া, জ্বালাপোড়া কিংবা ব্যথা স্নায়ুর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। কিছু লিভার রোগের সঙ্গে স্নায়ুর ক্ষতির সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণের কারণে লিভারের পাশাপাশি স্নায়ুতন্ত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হেপাটাইটিস সি সংক্রমণের সঙ্গেও কিছু ক্ষেত্রে স্নায়ুজনিত সমস্যা দেখা যায়।

তবে ডায়াবেটিস, ভিটামিনের ঘাটতি, স্নায়ুতে চাপ পড়া এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণেও হাত-পায়ে এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গের প্রকৃত কারণ জানতে চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।

লিভারের সমস্যা সন্দেহ হলে কী করবেন?

হাত-পায়ের এসব পরিবর্তন দেখা দিলেই লিভারের রোগ হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। তবে এসব লক্ষণের সঙ্গে অতিরিক্ত ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব, চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া কিংবা পেট ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক লিভার ফাংশন টেস্ট, অন্যান্য রক্ত পরীক্ষা কিংবা আলট্রাসনোগ্রামের মতো পরীক্ষা দিতে পারেন। পরীক্ষার ফলাফল, উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

লিভারের অনেক রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে উপযুক্ত চিকিৎসা ও জীবনযাপনে পরিবর্তনের মাধ্যমে জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তন দীর্ঘদিন অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

error: লেখাগুলো টাচ বাংলাদেশ - স্পর্শে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।